মানিকগঞ্জ
শ্রুতিলেখকের সহায়তায় এসএসসি দিচ্ছে অদম্য আরিফ

ছবি: আগামীর সময়
দুই হাত প্রায় অচল, স্পষ্টভাবে কথা বলতেও পারে না। তবুও থেমে নেই আরিফ মোল্লা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিবারের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে, শ্রুতিলেখকের সহায়তায় উত্তর লিখছে খাতায়।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ গ্রামের খোরশেদ মোল্লার চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় আরিফ মোল্লা (১৭)। সে হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিভিল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সেফটি ট্রেডের শিক্ষার্থী। তার পরীক্ষার কেন্দ্র বালিয়াটি ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজ হাতে লিখতে না পারায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে শ্রুতিলিখকের সহায়তায় পরীক্ষা দিচ্ছে আরিফ। তার শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিম (১৩)।
সরেজমিনে দেখা যায়, আরিফ যা বলছে, পাশে বসে তা-ই খাতায় লিখে দিচ্ছে তামিম। নিয়ম অনুযায়ী পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতিলিখক সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে সে।
তামিম জানায়, সে শ্রুতিলেখক হিসেবে আরিফের বলা উত্তরই লিখে দিচ্ছে।
হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমানের ভাষ্য, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ক্লাস করেছে আরিফ এবং এখন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার।
কেন্দ্র সচিব ও বালিয়াটি ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসালত জামান খান জানালেন, অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একই কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছে আরিফ। তার জন্য রয়েছে অনুমোদিত শ্রুতিলেখক এবং এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তার যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
সাটুরিয়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার শাকিল মাহমুদ বলেছেন, অন্য পরীক্ষার্থীদের তুলনায় সে পাচ্ছে বাড়তি সময়, যাতে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে।
জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া আরিফের পড়াশোনার আগ্রহ কখনও কমেনি। পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদের সহায়তায় সে আজ এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার এই অদম্য প্রচেষ্টা অনেকের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে সাহস ও অনুপ্রেরণার।



