‘ডাবে মাত্র দুই ঢোক পানি, অথচ দাম ১০০ টাকা’

মাদারিপুর শহরের একটি জায়গায় বিক্রির জন্য রাখা ডাব। ছবি: আগামীর সময়
গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে বেড়ে যায় ডাবের চাহিদা। বিশেষ করে রোদে পুড়ে যারা কাজ করেন, ডাবের জল তাদের কাছে এক প্রশান্তির নাম। চাহিদা বাড়ার সুযোগে ডাবের দাম বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা। মাদারিপুরে আকৃতি অনুযায়ী ডাবের দাম ওঠানামা করছে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই পানীয়।
শহরের ইটেরপুল বাজার, চৌরাস্তামোড়, পুরাতন বাজারসহ যে কয়টি স্থানে ডাব বিক্রি হয় প্রত্যেকটি জায়গায় আজ রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে এসব তথ্য।
ব্যাটারিচালিত রিকশা ভ্যান চালক আল-আমীন বললেন, ‘ডাব কিনলাম একটা, ছোট ডাব। সেই ডাবে মাত্র দুই ঢোক পানি অথচ দাম নিলো ১০০ টাকা। সারাদিন গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। তাই ডাবের পানি খাইলাম।’
তিনি হতাশা প্রকাশ করলেন, ‘সারাদিনে ৫০০ টাকা পাইছি। ডাবের পানি খেয়ে খরচ হইল ১০০ টাকা। ডাবের দাম যদি এতো টাকা হয়, তাহলে আমাদের তো ডাব খাওয়া সম্ভব হবে না।’
হালিমা বেগম নামের এক নারী বললেন, ‘আমার স্বামী একদিনে যা রোজগার করে, একটা ডাব কিনতে হলে চলে যায় সেই টাকা। ডাব খাওয়াতো এখন আকাশ কুসুম কল্পনার মধ্যে পড়ে।’
সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রীর জন্য ডাব কিনতে এসেছেন রিপন মোল্লা। তিনি বললেন, ‘গত সপ্তাহে ডাব কিনেছি ৭৫ টাকায়। একই আকারের ডাবের মূল্য এখন হয়ে গেছে ১০০ টাকা। দাম এতো বেড়েছে যে কিনতেই ইচ্ছা করছে না। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বাধ্য হয়ে নিতেই হবে।’
প্রচণ্ড গরমে বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে ডাব খাওয়া। এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা
বেসরকারি চাকরিজীবী শাহাদুল আকন অভিযোগ করলেন, ‘সিন্ডিকেটের কারণেই বাড়ছে ডাবের দাম। ডাব কিনে খাওয়ার উপায় নেই।’
মাদারীপুর সদরের ফেরিঘাট গ্রামের বাসিন্দা তন্দ্রা বেগম। তিনি বললেন, ‘প্রচণ্ড গরমে বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে ডাব খাওয়া। এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’
মাদারীপুরের খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিটি ছোট ডাব গড়ে ৪০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করতেন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। এখন সেটা বেড়ে গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৮০-১০০ টাকায়।
কোর্টের মোড় এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী আল-আমীন জানান, ডাবের পাইকারি দর এখন বেশি। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে চড়া দামে। মানুষের চাহিদাও আগের তুলনায় বেশি। তবে সরবরাহ বাড়লে কমে যাবে দাম।
চৌরাস্তা মোড়ের পাইকারি ডাব বিক্রেতা বাদল হাওলাদার বললেন, প্রায় সব অঞ্চলে এখন কমে গেছে নারিকেল গাছ। এ কারণে মিটছে না চাহিদা। ফলে ডাবের দাম বেশি। আড়তদারা দাম বাড়িয়ে দিলে কি করব আমরা?’
মাদারীপুরের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল বললেন, ‘কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি আমরা। অভিযানে মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিক্রেতাদের। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা যে দামে ডাব কিনছেন, তার ভাউচার সংরক্ষণ করতেও দেওয়া হয়েছে মৌখিক নির্দেশনা।’
এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।



