সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতেও সরগরম বাজার

ছবিঃ আগামীর সময়
দেশের সকল শপিংমল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি। তবে কিশোরগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র পুরানথানা এলাকায় দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ১০টা পর্যন্ত পুরানথানা মোড়, ইসলামীয়া সুপার মার্কেট, কাঁচা বাজার, মাছ বাজার ও শুটকি বাজার ঘুরে দেখা যায়, অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত খোলা রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য দোকানপাট।
শুধু তাই নয়, প্রায় প্রতিটি দোকানে জ্বলছে ৫ থেকে ১৫টি পর্যন্ত উচ্চ ওয়াটের বৈদ্যুতিক বাতি, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি আহ্বানের বিপরীত।
পুরানথানা মাছ বাজারের অনেক দোকানে সাদা আলোর পাশাপাশি রঙিন লাইটও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে ক্রেতাদের চোখের সমস্যাও তৈরি হচ্ছে বলে পাওয়া গেল অভিযোগ।
মাছ ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, ‘অন্ধকার থাকলে মাছ কিনতে আসে না কেউ। আলো বেশি না থাকলে পরিষ্কার দেখা যায় না মাছের রঙ। সাদা লাইটে ঠিকমতো বোঝা যায় না মাছের আসল রঙ। তখন ক্রেতারা পছন্দ করেন না মাছ।’ এই মাছ ব্যবসায়ীর দাবি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়সংক্রান্ত সরকারের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি জানেন না কিছুই।
একই বাজারের শুটকি ব্যবসায়ী তপন কুমার বর্মণ বলছেন, ‘বাজারে প্রতিযোগিতার কারণেই বাধ্য হচ্ছি বেশি আলো ব্যবহারে। আমি একা কম আলো ব্যবহার করলে হবে না। অন্য দোকানে বেশি আলো থাকলে আমার দোকান অন্ধকার লাগে, তখন আসেন না ক্রেতারা। আমাদের এই বাজার মূলত রাতের বাজার। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে চলে রাত ১টা পর্যন্ত।’
কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস খান জানান, ‘সরকার সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখার কথা বলেছে, সেটা আমরা জানি। কিন্তু পুরান থানার বাজার জমে রাতে। আর আলো না জ্বালালে তো চলবে না ব্যবসা।’
ক্রেতা হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, ‘সরকারের নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও তা মানছেন না কেউ। প্রতিটি দোকানেই জ্বলছে অতিরিক্ত লাইট। এতে সরকারের নির্দেশনা যেমন অমান্য করা হচ্ছে, তেমনি অতিরিক্ত আলো থাকায় ক্ষতি হচ্ছে চোখের। সবাই যেন সরকারের আদেশ পালন করে সেটাই চাই আমরা। শহরের সকল ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে যেন সমান সুযোগ থাকে।’
কিশোরগঞ্জ বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘সরকারের নিয়ম সবার জন্য সমান। ইতোমধ্যে বাজারে মাইকিং করে সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি আমরা। কেউ অমান্য করলে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।’
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূইয়া জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ী নেতাদের। সরাসরি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের নয়। তবে জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইলে অবশ্যই সহযোগিতা করব আমরা।’
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ জোর দেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বন্ধ রাখতে হবে সব দোকানপাট। কোনোভাবেই খোলা রাখার সুযোগ নেই। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাজার সমিতির নেতাদের মাধ্যমে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুতই নেওয়া হবে ব্যবস্থা।’
উল্লেখ্য, জ্বালানি সাশ্রয় ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত সোমবার থেকে দেশের সব দোকানপাট, শপিংমল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সরকার। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় পর্যায়ে সেই নির্দেশনা মানার ক্ষেত্রে এখনও রয়ে গেছে বড় ধরনের ঘাটতি।



