যুবদল নেতার গোডাউনে চোরাই কাপড়, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেপ্তার

ছবি: আগামীর সময়
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদার মালিকানাধীন একটি গোডাউন থেকে পোশাক কারখানার বিপুল পরিমাণ চোরাই কাপড় উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশারকে।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন রাজু।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার ও হাতিয়া উপজেলার বয়ারচরের আজিম নগর টিনের মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব কাপড় উদ্ধার করা হয় বলে জানান এসআই মহিউদ্দিন।
তিনি জানান, গত ২৩ এপ্রিল ১৬৩ বান্ডিল পোশাক কারখানার কাপড় নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। পরদিন কাভার্ডভ্যান চালক সুমনের সহায়তায় কাপড়গুলো নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় নিয়ে যায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাশারের সহযোগীরা। সেখানে বাশারের বন্ধু হরণী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও হাতিয়া উত্তর শাখা তাঁতী দলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম খলিলের যোগসাজশে কাপড়গুলো দুই ভাগে ভাগ করা হয়। পরে চোরাাই কাপড়ের একটি অংশ আজিম নগর টিনের মসজিদ এলাকার একটি ঘরে ও অন্য অংশ যুবদলের সদস্য সচিব নুরুলের গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল একটি মামলা করা হয় চট্টগ্রামের হালিশহর থানায়।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বাশারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান এসআই মহিউদ্দিন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ কাজের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই চক্রে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলেও এখনো অনেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি নিজে কাপড় উদ্ধারে সহায়তা করেছি।’
হাতিয়া তাঁতী দলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম জানান, কাভার্ডভ্যান চালক সুমন আমার বাড়ির পাশের। তাই সুমনের অনুরোধে তিনি একটি ঘর ভাড়া দিতে বাশারকে অনুরোধ করে সহায়তা করেন।
তবে সেখানে চোরাই কাপড় রাখা হয়েছিল এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান ইব্রাহিম।
সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল বলেছেন, ‘ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘরটি ভাড়া দিয়েছি। ভাড়াটিয়া কী করছে, তা সবসময় মালিকের জানা সম্ভব নয়।’
এসআই মহি উদ্দিন রাজু বলেছেন, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের মূল্য আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা।



