আইনমন্ত্রী
যুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা সংসদে পাস হওয়া আইনেই স্বীকৃত

জাতীয় সংসদে জামায়াতের ৬৮ এমপির উপস্থিতিতে গত ৯ এপ্রিল কণ্ঠভোটে পাস হয় ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬’। এই বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় জামায়াতের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান করা হয়েছে স্পষ্ট। এখন পূর্বসুরীদের দায় এড়ানোর আর কোনো সুযোগ দলটির নেই বলে মনে করছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় মে দিবসের আলোচনা সভায় এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, ‘১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে, সেটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য।’
“তাদের (জামায়াতে ইসলামী) পূর্বসুরীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করেনি, সেটা বলার নৈতিক জায়গা আর জামায়াতের নাই। কারণ এই সংসদে আমরা ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন আইন-২০২৬’ পাস করেছি। সেখানে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা দেওয়া আছে। আইনটির ধারা-২ এর উপধারা ১০ এ বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তাদের এ দেশীয় দোসর, আল বদর, আল শামস, রাজাকার, তৎকালীন রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী পার্টি, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যারাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, তারাই মুক্তিযোদ্ধা”- ব্যাখা করলেন আসাদুজ্জামান।
‘তার মানে দাঁড়ায় তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। আমরা যখন বিলটি সংসদে আনলাম, জামায়াতে ইসলামীও সেটির বিরোধিতা করেনি। তারা সংসদে চুপ করে ছিল। তার মানে দাঁড়ায়, মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ’- যোগ করেন তিনি।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। জুলাই সনদ নিয়ে করা এক প্রশ্নে তার জবাব, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যা যা করার বিএনপি করবে। তবে গণভোটের একটা অংশে প্রতারণা আছে। বিএনপি প্রতারণার অংশের সঙ্গে নেই।’
শৈলকূপা পৌর শ্রমিক দল আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান তুর্কি।



