আশুলিয়ায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যয়, ডিইপিজেডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ

ছবি: আগামীর সময়
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংয়ে শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলেও ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ডিইপিজেডে ছিল ভিন্ন চিত্র। বাইরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে দিনে ছয় থেকে সাত বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও ডিইপিজেডের ভেতরে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ছিল স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ও ডিইপিজেড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিং হয়েছে প্রতিদিন প্রায় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয় অধিকাংশ কারখানার। অনেক প্রতিষ্ঠান জেনারেটর চালিয়ে কাজ চালালেও বেড়েছে খরচ। নষ্ট হয়েছে কর্মঘণ্টাও।
জামগড়া এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া জানিয়েছেন, হঠাৎ লোডশেডিং বেড়ে যায় এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে। দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ না থাকায় বিঘ্ন ঘটে উৎপাদনে। অনেক সময় ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাঠানো নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছে ডিইপিজেডে থাকা কারখানাগুলো। ডিইপিজেডের নতুন জোনের একটি প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল লেবেল বাংলাদেশ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, আশুলিয়ায় তীব্র লোডশেডিং চললেও নিয়মিত বিদ্যুৎ পেয়েছেন তারা। এতে উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং হয়নি অতিরিক্ত খরচও। সরকার নির্ধারিত দামে পরিশোধ করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিইপিজেডের পুরাতন ও নতুন জোনে বিদ্যুতের মূল যোগানদাতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করে ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষকে। পরে সেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় কারখানাগুলোতে।
ইউনাইটেড পাওয়ারের প্ল্যান্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. গোলাম আরিফ জানিয়েছেন, তাদের প্ল্যান্টের উৎপাদন সক্ষমতা ৮৬ মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ডিইপিজেডের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট। গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন ধরে রাখতে ব্যবহার করা হয় বুস্টার। যাতে বিঘ্ন না ঘটে বিদ্যুৎ সরবরাহে।
ডিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকায় দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। এটি সরবরাহ করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। বিদ্যুতের মান ভালো হওয়ায় ক্ষতি হয় না যন্ত্রপাতির। ব্যাহত হয় না উৎপাদনও।
ডিইপিজেডের পুরাতন ও নতুন জোনে বর্তমানে চালু রয়েছে প্রায় ৯০টি শিল্প কারখানা।



