নিজস্ব ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও স্বায়ত্তশাসন চায় সিলেট

ছবি: আগামীর সময়
সিলেট অঞ্চলের ভাষা ও আঞ্চলিক পরিচিতি কেন্দ্র করে চলমান আলোচনায় নতুন করে সক্রিয় ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’। সংগঠনটির তিন দাবি— সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, সিলটি ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
গত শনিবার সিলেট নগরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ফের তুলে ধরে তারা আন্দোলনকে ‘নতুন ধাপে’ নেওয়ার কথা জানাচ্ছিলেন।
২০২২ সালের ২১ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ সিলেট বিভাগের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শুরু থেকেই মানববন্ধন, মিছিল, স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অবস্থান তুলে ধরছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত ১৮ এপ্রিল তিন দাবিতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে চেয়েছিলেন জনসভা করার অনুমতি। পরদিন পুলিশ কমিশনার সংগঠনের নেতাদের ডেকে স্বায়ত্তশাসন ও সিলটি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি বাদ দিয়ে জনসভা আয়োজনের শর্ত দেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা এসব দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন, তাই তা বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেছেন, এটি তাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের পরিপন্থি। তারা দাবি করেন, ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ কোনো নিষিদ্ধ বা আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠন নয়; বরং সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবির পক্ষে পালন করে আসছে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে স্বায়ত্তশাসন, সিলটি ভাষার স্বীকৃতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর চৌহাট্টার শহীদ মিনারে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কর্মসূচি, ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সিলটি ভাষাকে দ্বিতীয় অফিসিয়াল ভাষা করার দাবিতে মানববন্ধন এবং ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কোর্ট পয়েন্টে প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে মানববন্ধন ও মিছিল হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে দেওয়া হয় স্মারকলিপিও।
সংগঠনটির ভাষ্য, সিলটি একটি স্বতন্ত্র ভাষা, যার নিজস্ব বর্ণমালা ‘নাগরী’। এটি দীর্ঘ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ কথা বলেন এই ভাষায়। এই ভাষার ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন অনেক গবেষক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক সরকারি ভাষা ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে তারা সিলটি ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন উল্লেখ করে সংগঠনটির দাবি, রাজধানী থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলে জানান সংগঠনের নেতারা। প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও বলা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সিলটি পাঞ্চায়িতের দাবি-দাওয়া মূলত ভাষা ও আঞ্চলিক পরিচিতিকেন্দ্রিক একটি আন্দোলনের অংশ, যা ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায়। তবে এসব দাবির বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়েও আছে ভিন্ন মত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাজ রীহান জামানসহ অন্য নেতারা।



