২ বছরের সাজা এড়াতে ৬ বছর আত্মগোপনে কলেজ শিক্ষক, অবশেষে গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দেখা যায় দুর্নীতি আর অন্যায়। লালমনিরহাটের কলেজ শিক্ষক আবু হেনা মোস্তফা জামানের কর্মকাণ্ডে বিষয়টি আরও নগ্নভাবে ধরা পড়ল।
অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় ২ বছরের সাজা হয়েছিল আবু হেনার। তিনি আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সমাজকর্ম বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। সাজা এড়াতে দীর্ঘ ৬ বছরের বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে আবু হেনাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
গ্রেপ্তার আবু হেনা মোস্তফা জামান লালমনিরহাট শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত মনসুর আলীর ছেলে।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সজিব আহমেদ জানান, ৬টি মামলা রয়েছে আবু হেনার বিরুদ্ধে। যার মধ্যে চারটি মামলায় মোট দুই বছরের সাজা হয়েছে তার। বাকি দুইটি মামলা এখনো বিচারাধীন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে একই উপজেলার মহিষখোচার শরিফুল ইসলাম নামে প্রাক্তন এক ছাত্রের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন আবু হেনা। জামানত হিসেবে তিনি নিজের ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প দিলেও পরবর্তীকালে চাকরি দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এই অধ্যাপক। চাকরি না পেয়ে আবু হেনার বিরুদ্ধে মামলা করেন শরিফুল।
‘মামলার পর থেকে ২০১৯ সালের শেষের দিক থেকে কলেজে আসা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান আবু হেনা। ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই মামলার রায় ঘোষণা করেন যুগ্ম দায়রা জজ মো. এরশাদ আলী। মামলা করেও টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে মনঃকষ্টে মারা যান শরিফুল,’ বলছে বিবরণ।
নথিতে প্রকাশ পেয়েছে, শুধু শরিফুল নয়, আরও অনেকের সঙ্গেই একই উপায়ে জালিয়াতি করেছেন আবু হেনা। বাকি ভুক্তভোগীরাও মামলা দায়ের করেন তার বিরুদ্ধে। এভাবে ৬টি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
এদিকে কলেজে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন নিয়মিত। পরবর্তীতে কয়েক মাস আগে কলেজ শিক্ষকদের প্রতিবাদের মুখে তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ।



