নারায়ণগঞ্জ
ঝুটের বিরোধে যুবদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ২

ছবিঃ আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্থানীয় যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছোড়া হয়েছে গুলি, বিস্ফোরণ হয়েছে ককটেলের। শিশুসহ দুইজন এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ, আহত কয়েক পথচারী। বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা। সংঘর্ষের সূত্রপাত ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইস্যুতে- জানা গেছে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে।
আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১১ বছরের ইমরানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গুলিবিদ্ধ আরেকজন হলেন ২৩ বছরের মো. রাকিব। তিনি এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে। তাকে ভর্তি করা হয়েছে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে।
এছাড়া ককটেল বিস্ফোরণে আহত কয়েক পথচারী স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তথ্যগুলো ফতুল্লা থানা পুলিশের।
স্থানীয় ও পুলিশসূত্রে জানা গেছে, এলাকার ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট’ নামের একটি কারখানার ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই বিরোধ। এক গ্রুপের নেতৃত্বে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী অভি ও মানিক। অন্য গ্রুপটি বিএনপি নেতা খোকার অনুসারীদের। এর নেতৃত্বে আছেন ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজি মাসুদুর রহমান মাসুদ। বৃহস্পতিবার কারখানার ঝুট নামানো নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে তর্কাতর্কির পর বাঁধে সংঘর্ষ।
হোসেন খোকার অভিযোগ, ‘মাসুদের নেতৃত্বে আমার নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অভি-মানিক গ্রুপের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গুলি ছোড়ে।’
অন্যদিকে অভি-মানিক গ্রুপের দাবি, চব্বিশের সরকার পতনের পর থেকে তারাই ওই কারখানার ঝুট সংগ্রহ করে আসছিল। নতুন করে মাসুদ গ্রুপ এসে নিয়ন্ত্রণ নিতে চাওয়ায় এই উত্তেজনা ও সংঘর্ষ।
এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা নেই- দাবি জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির।
‘কারখানা থেকে আজ ঝুট নামানোর কথা ছিল। যারা বৈধভাবে ঝুট নামাচ্ছিলেন, তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, পুরোটা ব্যবসায়িক। আর এতে আমি কোনোভাবে জড়িত নই, আমি ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি জেনেছি।’
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে- জানালেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।
‘ঝুটের মালামাল নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন’- তথ্য এই পুলিশ কর্মকর্তার।



