প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিং
হিলিতে দিনে রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর সঙ্গে ঘনঘন লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় আরও বেড়েছে দুর্ভোগ। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শ্রমজীবী ও দিনমজুর মানুষ।
মাঠে কাজ করা শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে ডায়রিয়া, জ্বর ও হিটস্ট্রোকের মতো রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, হিলিতে তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের তীব্রতা আরও বাড়ছে। এতে দিনের বেলায় রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবির হোসেন রাসেল বলছেন, এত গরমে বাইরে বের হওয়াই কষ্টকর। তার ওপর বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরেও থাকা যায় না। বিশেষ করে বেড়েছে শিশুদের সমস্যা।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, গরমের কারণে শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকেরা স্যালাইন ও পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকায় হাসপাতালে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলা হরিণা গুমরা গ্রামের কৃষক সোহেল বাবু বলছেন, বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
হিলি বাজারের ওয়্যারিং ও লেদ দোকানি রনি হোসেন জানাচ্ছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে এবং অর্ডার ডেলিভারি দিতে সমস্যা হচ্ছে। কর্মচারীদের বিল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাসুদেবপুর ক্যাম্পপট্টি গ্রামের অটোরিকশা চালক ফারহান মিতুলের ভাষ্য, লোডশেডিংয়ের কারণে গাড়ি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে কমে গেছে আয় এবং কঠিন হয়ে পড়েছে জীবিকা চালানো।
হাকিমপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জোনাল কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলছেন, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট। এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলছেন, তাপমাত্রা এভাবেই ওঠানামা করবে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাত্তহীদ জামান বলছেন, গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সবাইকে বেশি করে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তীব্র গরম ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে হিলির মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



