গাংনাই নদীর জায়গা দখল করে স্কুল নির্মাণের অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার শিবগঞ্জের গাংনাই নদীর জায়গায় স্কুলভবন ও প্রাচীর নির্মাণ করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নদীর জায়গা পরিমাপ করতে গিয়ে এই ঘটনা জানতে পারেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) কর্মকর্তারা।
বগুড়ার বাপাউবো কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার আলিয়াহাট এলাকায় গাংনাই নদীতে ১৫ ভেন্ট রেগুলেটরের স্লুইসগেটে আরও দুটি পাল্লা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাপাউবো। একই সঙ্গে নদীর আশপাশের পরিবেশ ও সৌন্দর্য উন্নয়নে একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এই কাজের জন্য পরিমাপ করতে গিয়ে দেখা যায় আলিয়ারহাট এলাকার রোকেয়া ছাত্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান নদীর জন্য অধিগ্রহণকৃত জায়গা নিজেদের দখলে রেখেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সরকারিভাবে বিদ্যালয়ের নামে এই জায়গা লিজ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি ২০০৩ সালে ৭৫ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। পরে বিদ্যালয়ের সুবিধার জন্য ২০০৭ সালে ৫ একর ৫৮ শতক জমি লিজ নেয় তারা।
এই লিজকৃত জমির একটি বড় অংশ গাংনাই নদীর সীমার মধ্যে বলে জানিয়েছে বাপাউবো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবহৃত অকৃষি জমি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে লিজ নেওয়া হয়েছে। আমাদের ক্রয় করা জমি ছিল ৭৫ শতক। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫ একর ৫৮ শতক। কিছুদিন আগে বাপাউবো এসে মাপজোক করে গেছে। স্কুলের মাঠ হিসেবে ব্যবহার হয় এই জায়গা। শুধু স্কুলের শিক্ষার্থীরা নয়, এই এলাকার সবার খেলার মাঠ এটি। আমরা বলতে চাই এটি খেলার মাঠ হিসেবে রেখে দেওয়া হোক।’
বাপাউবোর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবনের অর্ধেক অংশ, আধাপাকা টিনশেড এবং নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রাচীর-অধিগ্রহণ করা জায়গার মধ্যে পড়েছে। প্রথমবার পরিমাপের পর আবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বাপাউবো আবার নদীর সীমানা পরিমাপ করে। মূল নদী ঠিক থাকলেও তীরবর্তী এলাকায় জায়গার সংকট আছে। নদীর জায়গা যেটি খাস জমি অবস্থায় ছিল, ভরাট করা হয়েছে।
বাপাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হাই জানান, গাংনাই নদীতে রেগুলেটর করার সময় থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে জায়গা অধিগ্রহণ করা ছিল। ১৯৭৭, ৮৮ ও ৯০ সালের দিকে এই অধিগ্রহণ করা হয়। মাপজোকে যেটা দেখা গেছে নদীর গতিপ্রবাহের সীমানা ৭০ ফিট আছে। কিন্তু তীরের জায়গার অনেক অংশের ভেতর বিদ্যালয়ের স্থাপনা প্রবেশ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, আলিয়ারহাট এলাকায় গাংনাই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার চারটি গ্রামের প্রায় হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা।
বাপাউবোর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আছাদুল হক বলেছেন, ‘গাংনাই নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই লক্ষ্যে গত ২৪ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নদীর দখল হওয়া প্রায় ১৭ একর জায়গা লাল পতাকা ও লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ১৫ পাল্লার স্লুইসগেটের দুটি পাল্লা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
আছাদুল জানান, কাগজপত্র যাচাই করে আমরা আমাদের নদীর জায়গা নিজেদের দখলে নিয়ে নেব।
এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নদী-খালসহ জনসাধারণের চলাচল ও পানিপ্রবাহের পথ কোনোভাবেই ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। কোথাও অবৈধ দখল থাকলে তা উচ্ছেদ করা হবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নদী ও খাল ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কোনো নদী বা খালের কিছু অংশ যদি বদ্ধ জলাশয়ে রুপ নেয়, তখন সেটি সায়রাত মহাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেক্ষেত্রে সেটি ইজারা দেয়া যায়। এটি প্রতি বছরেই হয়। এ রকম ক্ষেত্রে সরকার চাইলে আবার সেটি নিয়ে নিতে পারে। এখন সেটি যদি সায়রাত মহাল না হয়ে থাকে, তাহলে ইজারা বিষয়টি ভুয়া কথা। যদি ওই জায়গা সেরকম অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে আমরা উচ্ছেদ করব।’



