জয়পুরহাট
রেজিস্ট্রেশন বিতর্কে বিদ্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, লুটের অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের আঁওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় চলাকালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীর বাবা, ভাই ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, হুমায়রা নামে এক শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। বিদ্যালয়ের রেকর্ডেও তার রেজিস্ট্রেশন বিজ্ঞান বিভাগে করা হয়। সে বিজ্ঞান বিভাগের বই গ্রহণ করে এবং অংশ নেয় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায়।
বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীর বড় ভাই জাহিদ বিদ্যালয়ে এসে রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে খোঁজ নেন। অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ তাকে রেকর্ডপত্র দেখালে জাহিদের দাবি, তার বোনের রেজিস্ট্রেশন মানবিক বিভাগে হওয়ার কথা। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে চলে যান।
এর কিছু সময় পর জাহাঙ্গির হোসেন, জাহিদ, মোর্শেদুলসহ ৬ থেকে ৭ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। তারা অফিস সহকারীকে মারধর করেন এবং অফিসের কম্পিউটার, প্রিন্টার, টেবিল, চেয়ার ও আলমিরা ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি সততা স্টোরের মালামাল, টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান। পরে হামলাকারীরা অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা কেটে অফিসে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ জানালেন, শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। এরপরও তারা হামলা চালিয়ে মারধর ও ভাঙচুর করেছেন।
বিদ্যালয়ের আয়া মাহবুবা খাতুন উল্লেখ করেন, তিনি বাইরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজনকে লাঠি ও কোদাল নিয়ে অফিস কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর করতে দেখেন।
সহকারী শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বসাক মন্তব্য করেন, রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলেও তা সংশোধনের সুযোগ ছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছেন।
অভিযুক্ত জাহিদ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তারা বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন, তবে মারধর বা ভাঙচুর করেননি।
কালাই থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশের পর পাওয়া গেছে ভাঙচুরের আলামত। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মস্তফা খানের ভাষ্য, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।



