‘আমার পোলাডারে আইনা দে, কেডা কইবে মা খাইছো’

সংবাদ সম্মেলনে কেঁদে কেঁদে কথা বলছেন আলভীর মা। ছবিঃ আগামীর সময়
আলভীর স্বপ্ন ছিল একদিন নিজের ভাগ্য বদলাবে— হাসি ফোটাবে পরিবারের মুখে। সেই স্বপ্নই হয়ে উঠল তার জীবনের বড় ফাঁদ। ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ আলভী। তার সন্ধান ও দোষীদের বিচার দাবিতে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার।
ইতালিতে বৈধভাবে কাজের সুযোগের আশ্বাসে দালালের সঙ্গে চুক্তি হয় ২১ লাখ টাকা। নেওয়া হবে বিমানে। পরে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর পুরো টাকা পরিশোধ করে আলভীর পরিবার। এর চার দিন পর ১৯ অক্টোবর আকাশপথে সৌদি নেওয়ার পরই বদলে যায় সবকিছু। প্রতিশ্রুতির সেই ইউরোপযাত্রা আর বাস্তব হলো না— বরং আলভীকে নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়, যেখানে শুরু হয় তার অজানা, ভয়ংকর বন্দিজীবন।
পরিবার জানায়, লিবিয়া নেওয়ার পর আলভীর ওপর চালানো হয় নির্যাতন। সেই নির্যাতনের আর্তনাদ অডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে চাওয়া হয় মুক্তিপণ। বাধ্য হয়ে গত ৪ নভেম্বর বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ২২ লাখ টাকা দেয় পরিবার। এরপরও আরও অর্থ দাবি করা হলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৪ এপ্রিল থেকে আলভীর সঙ্গে পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে পাচারকারী চক্র।
নিখোঁজ আলভী খানের বাড়ি সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের কুন্তিপাড়া গ্রামে। তার বাবা এমদাদ হোসেন খান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাতুল হাওলাদার (২৮)। তার বাড়ি ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ধুল গ্রামে। রাতুলের বাবা সরোয়ার হাওলাদার।
‘ওর (আলভী) বাপে ভ্যান চালাইয়া সংসার চালায়। আমরা অনেক ঋণ করছি, কিস্তিতে টাকা আনছি। এহন টাহাগুলো কেমনে দিমু? আমাগো তো খাইতেই কষ্ট। দালাল আমার পোলারে টাকার লাইগা অনেক মারছে। টাকা নিতে না পারায় এহন আমার ছেলের কোনো খোঁজ-খবর নাই। তোরা আমার পোলাডারে আইনা দে, একটু কথা কওয়াই দে। কেডা কইবে মা খাইছো। আর কেউ কইবে না মা খাইছো’— বিলাপ করতে করতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আলভীর মা সুইটি বেগম।
এ ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল রাতুল হাওলাদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন আলভীর বাবা। নিখোঁজ ছেলের সন্ধান ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘আলভী নামের যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে প্রধান আসামি রাতুল হাওলাদার। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।’



