‘কাজ না করলে বাজার করতে পারুম না’

ছবি: আগামীর সময়
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মে দিবসের রাষ্ট্রীয় আমেজ আর অধিকার আদায়ের স্লোগান যখন চারদিকে মুখর, তখন জীবিকার তাগিদে রড-সিমেন্ট নামাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন একদল দিনমজুর। আজ শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস ২০২৬ বিশ্বব্যাপী পালিত হলেও সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। যাদের জন্য এই বিশেষ দিন, সেই শ্রমিকদের কাছে বিশ্রামের কোনো সুযোগ নেই। রড কাঁধে নিয়ে ঘাম ঝরানো জামাল হোসেন আবেগঘন কণ্ঠে বললেন, ‘আজকা শ্রমিক দিবস জানি না, শ্রমিক দিবস হইলেও কাজ করতেই হবে। কাজ না করলে বাজার করতে পারুম না। সারা দিন কাজ কইরা সন্ধ্যায় বাজার কইরা নিয়া যামু বাড়িতে।’
এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’ হলেও এসব শ্রমিকের জীবনে সেই প্রভাতের দেখা মেলেনি। মে দিবসের মূল দাবি আট ঘণ্টা কর্মদিবস হলেও সাটুরিয়ার এসব শ্রমিক দৈনিক ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন। শ্রমিক ইয়াকুব আলী জানান, ট্রাক থেকে মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ করে দিনে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। আয়ের সব টাকা চলে যায় পরিবারের বাজার করার পেছনে। এক দিন কাজ বন্ধ রাখলে তাদের অভাবি সংসারে বড় ধরনের টান পড়ে। তাই কোনো দিবস নয়, তাদের কাছে কাজই মুখ্য।
শ্রমিকদের এই নিরন্তর লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে শওকত আলী বললেন, যারা মাসিক বেতনে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে তারা এক-দুই দিন কাজ না করলেও বেতন ঠিক পায়। কিন্তু আমরা দৈনিক শ্রমিক, কাজ অনুযায়ী টাকা। বাড়িতে থাকলে কোনো টাকা পামু না, কাজ না করলে বাড়ির বাজারও করতে পারুম না। শ্রমিকদের সর্দার হানিফ আলী মন্তব্য করেন, এখানকার শ্রমিকরা সবাই হতদরিদ্র ও দিনমজুর। এক দিন কাজ না করলে পরের দিনের খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তার ওপর এনজিওর ঋণের কিস্তির চাপ তো আছেই। তাই বসে থাকার কোনো উপায় তাদের নেই।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. লাবু মিয়া জানান, সকালে শ্রমিকরা যখন কাজে আসছিল, তখন তিনি তাদের মে দিবসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শ্রমিকদের সাফ কথা ছিল, ঘরে বাজার নেই এবং ঋণের কিস্তি দিতে হবে। তারা পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে জানান, কাজ না করালে যেন এমনিতেই টাকা দেওয়া হয়। বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক দাবি করেন, এই শ্রেণির মানুষের কাছে দিবসের মহাত্মের চেয়ে পেটের দায় আর কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। এভাবেই অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক দিনেও সাটুরিয়ার মেহনতি মানুষগুলো ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন শুধুৃ দুমুঠো ভাতের সংস্থানে।



