রাজবাড়ীতে স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম ও পোকাযুক্ত পাউরুটি

ছবি: আগামীর সময়
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার আরশেদ সাজেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পাওয়া গেছে পচা ডিম ও পোকাযুক্ত পাউরুটি সরবরাহের অভিযোগ। আজ বৃহস্পতিবার আকস্মিক পরিদর্শনকালে এই চিত্র দেখেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তলব করা হয়েছে তলব করা হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। পাশাপাশি তলব করা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকেও।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে খাবারের মান উন্নত না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায়। এই খাবার সরবারহ করছে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা পারভীন বললেন, ‘গতকাল বুধবার বাচ্চাদের খাওয়ার জন্য পাউরুটি দেওয়া হয়। বাচ্চারা হাতে পেয়ে খোলার পর পোকা দেখে আমাদের জানায়। তারপর বাচ্চাদেরকে পাউরুটি খেতে নিষেধ করি। বৃহস্পতিবার পাউরুটি দেয়নি। শুধু ডিম দিয়েছে। এই ডিমের মধ্যে কিছু ডিম পচা।’
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার সুপারভাইজার মো. শরীফুল ইসলাম বলছেন, ‘গতকাল সরবরাহ করা হয়েছিল পাউরুটিগুলো। মান খারাপ হওয়ায় আজ রুটি সরবরাহ বন্ধ রেখে দেওয়া হয়েছে শুধু ডিম। এই বিষয়ে চলছে তদারকি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনের ভাষ্য, ‘আমরা আরশেদ সাজেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে গতকাল ডিম খাওয়ার পর পেটে ব্যাথা অনুভব করে তারা।’
‘এই ঘটনায় মূল ঠিকাদারকে আগামী রবিবার অফিসে আসতে বলা হয়েছে। তারা যদি খাবারের মান ভালো না করে তাহলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে তাদের বিরুদ্ধে’, বলেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার।
উপজেলা তদারকি কমিটির চেয়ারপার্সন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলছেন, ‘শিশুদের খাবারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় আমি ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন আকস্মিকভাবে দুটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করি।’
‘শিশুদের খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত দুইটি খাবারের পরিবর্তে একটি দেওয়া হয়েছে, আবার নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানোর ঘটনাও পাওয়া গেছে। আজও ডিম ও রুটি দেওয়ার কথা থাকলেও শুধু ডিম সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে খাবারের মান উন্নত না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, বলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
তবে একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সময় নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়। মাঝে মধ্যে ফেরত দেয়া হয় মানহীন খাবার। পাউরুটিতে ছত্রাকের দাগ এবং কলা থেঁতলে যাওয়ার ঘটনা দৈনন্দিন বলে জানান তারা।



