ঘুষ না দেওয়ায় জেলের গরু অন্যের গোয়ালে!

সরকারি বরাদ্দের বকনা বাছুর
বাগেরহাটে সরকারি প্রকল্পের গরু বিতরণে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তালিকাভুক্ত দরিদ্র জেলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে বরাদ্দ গরু অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন’ প্রকল্পে গরু পাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত ছিলেন তারাপদ। তার বাড়ি ফকিরহাট উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহর মৌভোগ গ্রামে।
অভিযোগ, ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জেলে তারাপদ বিশ্বাসকে গরু না দিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহিত বালার মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে গরু দেওয়া হয় অন্য ব্যক্তিকে। পরে সেই গরুটি দেখা যায় একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর বাড়িতে।
শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে শ্রীবাস বৈরাগী জানান, গরু পাওয়ার জন্য তার কাছেও ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে ৪ হাজার টাকা দিলে গরুটি তাদের দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, এটি অন্যের নামে বরাদ্দ ছিল।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ফকিরহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহর উপস্থিতিতে তারাপদ বিশ্বাসের নামে বরাদ্দকৃত বকনা বাছুরটি তাকে না জানিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহিত বালার কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে সেটি শ্রীবাস বৈরাগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী তারাপদ বিশ্বাসের ভাষ্য, ‘তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও গরু বিতরণের বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই আমার নামের গরু এখন অন্যের গোয়ালে। ১০ হাজার টাকা ঘুষ না দিতে পারায় আমি বঞ্চিত হয়েছি।’ গরুটি ফেরত পেতে একাধিকবার মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান তিনি।
তার ছেলে প্রহলাদ বিশ্বাসের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ করার পর উল্টো তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও গরু দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।
এ বিষয়ে মোহিত বালা মন্তব্য করেন, গরু বিতরণের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কে গরু পেয়েছে বা পায়নি, তা মৎস্য অফিস জানে।
ফকিরহাট উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, তারাপদ বিশ্বাস প্রকৃত জেলে এবং তালিকাভুক্ত ছিলেন। তিনি উপস্থিত না থাকায় কার্ড দেখে তার ছেলে পরিচয়দানকারী একজনের কাছে গরু দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মাঠ সহকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে যাচাই ছাড়া অন্যের কাছে গরু হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
ভুক্তভোগী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



