চুয়াডাঙ্গা
পেঁয়াজ বীজ চাষে সাফল্য, আমদানিনির্ভরতা কমার আশা

ছবিঃ আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে পেঁয়াজ বীজ চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষকরা। মাটি, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে মাঠজুড়ে এখন পাকা বীজের সমারোহ। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গুণগত মানসম্পন্ন বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় কৃষি বিভাগের প্রণোদনার আওতায় ১০০ জন কৃষককে নিয়ে এই চাষ শুরু হয়। কৃষকদের বিনামূল্যে পেঁয়াজ বীজ (কন্দ), রাসায়নিক সার, বালাইনাশক ও বীজ সংরক্ষণের জন্য ড্রাম সরবরাহ করা হয়। প্রথমে অপ্রচলিত এই চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে দ্বিধা থাকলেও ফলন দেখে এখন সবাই উদ্বুদ্ধ।
সরেজমিনে দেখা যায়, পেঁয়াজ গাছের মাথায় সাদা রঙের ফুলগুলো এখন বীজে রূপান্তর হয়ে পাকতে শুরু করেছে। বীজের ভেতরের রং কালো হওয়ায় কৃষকরা একে কালো সোনা হিসেবে অভিহিত করছেন।
দামুড়হুদার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, প্রতি বিঘা জমিতে চাষে খরচ হয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা থেকে প্রায় ১২০ কেজি বীজ উৎপাদন সম্ভব, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২ লাখ টাকারও বেশি। এছাড়া বীজের গাছের গোড়ায় থাকা পেঁয়াজ বিক্রি করে বাড়তি আয়ের সুযোগও রয়েছে।
‘প্রথমে লোকসানের ভয়ে চাষ করতে চাইনি। কিন্তু কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষ শুরু করার পর যখন গাছে ফুল এল, তখন লাভের স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। এখন অল্প দিনেই বীজ তোলা শুরু করব’, সরকারের সহায়তা পেয়ে খুশি পেঁয়াজ চাষী হুমায়ন কবির।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানিয়েছেন, ‘সিজনে কৃষকদের বাড়তি টাকা দিয়ে বীজ কিনতে হয় এবং অনেক সময় প্রতারিত হতে হয়। নিজস্ব উদ্যোগে ব্যাপক পরিসরে মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করা গেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। গুণগত বীজের কারণে পেঁয়াজের ফলনও অনেক বৃদ্ধি পাবে।’

