ঈদের ছুটিতে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড়

ছবিঃ আগামীর সময়
ঈদের দ্বিতীয় দিনে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। হাজারো মানুষের পদচারণায় প্রাচীন এই স্থাপত্যে সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর, প্রাণচঞ্চল পরিবেশ।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর পুরো প্রাসাদ চত্বর। কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিবন্দী হচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত সেলফিতে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছেন জমিদার আমলের নিদর্শনগুলো। শিশুদের হাসি-খুশিতে পুরো এলাকা যেন এক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।
প্রাসাদের ভেতরে সংরক্ষিত জমিদারদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র যেমন কাঠের চেয়ার, আয়না, লোহার সিন্দুক, খাট, হারিকেনসহ নানা ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। তবে এসব জিনিস স্পর্শ করা বা বসে ছবি তোলা নিষিদ্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে প্রাসাদের নির্দিষ্ট অংশে ছবি ও ভিডিও ধারণেও রয়েছে বিধিনিষেধ, যা তদারক করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।
দর্শনার্থীদের মধ্যে নাহিদ হাসান বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে প্রাসাদের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। নাজমুল হাসান জানান, ঈদের কারণে ভিড় থাকলেও জমিদার বাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করে দারুণ সময় কাটিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিবছর ঈদে পরিবার নিয়ে এখানে আসা তাদের এক ধরনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে আসা লাবনী শারমিন বলেন, পরিবেশটি আনন্দমুখর হলেও দর্শনার্থীদের জন্য মানসম্মত শৌচাগারের অভাব রয়েছে, যা সমাধানের দাবি জানান তিনি। কলেজছাত্রী জেসমিন সুলতানা নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভিড়ের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তির অশালীন আচরণ দর্শনার্থীদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঈদের সময় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়, তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থাপনাটির সংরক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ১৬ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। সাতটি দক্ষিণমুখী প্রাসাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই স্থাপনাটি উনবিংশ শতকের রেনেসাঁধর্মী স্থাপত্যশৈলীর একটি অনন্য নিদর্শন। একসময় জমিদারদের প্রশাসনিক ও আবাসিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত এই প্রাসাদের সামনের অংশে ছিল দাপ্তরিক কার্যক্রম, আর পেছনের অংশে ছিল অন্দরমহল।
ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া মানুষের কাছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি এখন এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

