শেবাচিমে হামের চিকিৎসায় ৩ আইসোলেশন

ছবিঃ আগামীর সময়
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) তিনটি আইসোলেশন ইউনিটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইসোলেশন কক্ষ বাড়ানোর প্রস্তুতি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে হাম রোগীদের সেবায় মানোন্নয়ন সংক্রান্ত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর।
হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে শিশু বিভাগের সব চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হাম আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীদের যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক বলেছেন, ১৩ মার্চ থেকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রথম তলার আইসোলেশন ওয়ার্ডে পৃথক ২টি কক্ষ ও ২য় তলার শিশু ইউনিট-১ এর একটি কক্ষে হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে। হামের পৃথক আইসোলেশন কক্ষ গুলোতে যে শিশুদের অক্সিজেন লাগছে, তাদের পর্যাপ্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। হামের চিকিৎসার জন্য শিশু বিভাগের ৩টি ইউনিটেই চিকিৎসক ও নার্স এবং অন্যান্য স্টাফরা কর্মরত আছেন। এমনকি জরুরি বিভাগে ভর্তির সময় হাম আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই সতর্কতার সাথে সরাসরি রোগীদের পৃথক হাম কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালের আরও পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন, চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান পরিচালক।
জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসে এ পর্যন্ত তিনটি আইসোলেশন কক্ষে হামে আক্রান্ত মোট ৯৩ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৩ জন।
মতবিনিময় সভায় শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ জানান, আমাদের হাসপাতালে হামের যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে। তিনটি আইসোলেশন কক্ষে সার্বক্ষণিক হামের চিকিৎসা হচ্ছে। সেখানে ওষুধ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে।
তিনি বলছিলেন, কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হাম খুব দ্রুতই জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখের ইনফেকশন, মস্তিস্কে প্রদাহ দ্রুত অবনতির দিকে যায়। আর তখনই হাইফ্লো অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। হাইফ্লো অক্সিজেনেরও যথাযথ ব্যবস্থা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মতবিনিময় সভায় শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, মূলত বসন্তকালে হামের প্রাদুর্ভাব ঘটে থাকে শরীরে প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল, গলা ব্যথা, মুখে ক্ষত, শরীর দুর্বল, ক্ষুদামন্দা, ডায়ারিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং জ্বর হওয়ার ৪/৫ দিন পর মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে দানার মতো র্যাশ উঠা হামের লক্ষণ।
হাম প্রতিরোধে প্রথমত শিশুদের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য শিশুকে জন্মের ৬ মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ এবং ছয় মাস পর বুকের দুধের সাথে বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে। সময়মতো টিকা দিতে হবে বলে জানান চিকিৎসকরা।

