রাজশাহী নার্সিং কলেজে কমপ্লিট শাটডাউন

সংগৃহীত ছবি
অধ্যক্ষ নিয়োগের এক দফা দাবিতে রাজশাহী নার্সিং কলেজে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ক্লাস, পরীক্ষা ও ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ করে কলেজে তালা ঝুলিয়ে ঘোষণা করা হয় এ কর্মসূচি।
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় তিন মাস ধরে কলেজে অধ্যক্ষ না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে তৈরি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। সম্প্রতি দেশের আরও কয়েকটি নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে রাজশাহী নার্সিং কলেজকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, শিক্ষকদের মধ্যে অন্তঃকলহ ছিল। উচ্চপর্যায়ের একটি পক্ষের গাফিলতির কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি। পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ মতিয়ারা বেগম অবসরে যাওয়ার পর কোনো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ না থাকায় তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক শূন্যতা। এ সুযোগে অধ্যক্ষ পদে আগ্রহ প্রকাশ করে ‘লবিং’ শুরু করেন কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক। তবে জটিলতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এখনো নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি নতুন অধ্যক্ষ ।
গত শনিবার থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা। সময়সীমা শেষ হলেও কোনো প্রজ্ঞাপন না আসায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে যান শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ না থাকায় শুধু পাঠদান নয়, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণও ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তারা। কর্মসূচিতে সংহতি জানায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং অনুষদের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ব্রাইট লাইফ ভলান্টিয়ার্স’। রাজশাহী নার্সিং কলেজের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম খান জানান, প্রায় তিন মাস ধরে অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকলেও কোনো নিয়োগ হয়নি। এতে পুরো কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়েই কমপ্লিট শাটডাউনে গিয়েছি আমরা।
তিনি আরও জানান, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি।



