উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওর প্লাবিত, ঝুঁকিতে ৩০০ হেক্টর ধান

সংগৃহীত ছবি
অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নতুন করে আরও প্রায় ২০০ হেক্টর বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ হেক্টরে। পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে হাওর এলাকায় পানি হু হু করে বাড়ছে। এতে নতুন নতুন জমি ডুবে যাচ্ছে। অনেক স্থানে বুকসমান, কোথাও আবার কোমরসমান পানিতে নেমে কৃষকদের ধান কাটতে হচ্ছে। বাড়তি খরচে শ্রমিক নিয়োগ করে কোনোভাবে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, অধিকাংশই ঋণ ও সুদের টাকায় জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক ঢলে সেই স্বপ্ন ভেঙে যেতে বসেছে। কাটা ধানও রোদের অভাবে শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে নাসিরনগরের হাওর এলাকায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়। আগাম পানি আসার আগে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হলেও বর্তমানে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান পানির মধ্য থেকেই কাটা হয়েছে।
তিনি আরও জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। বোরো ধান সংগ্রহ মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে হাওরের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।



