নোয়াখালী
ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক ছাত্রীকে (১৯) বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী মামলা করলে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালাত।
আজ শনিবার দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাতে পশ্চিম মির্জা নগর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ এপ্রিল দুই স্কুল শিক্ষকসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওই ছাত্রী।
গ্রেপ্তার দেলোয়ার উপজেলার পূর্ব মির্জা নগর গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে মামলার অন্য আসামিরা হলেন, শংকর চন্দ্র মজুমদার (৪৮)। তিনি তিন তক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এছাড়াও আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতপরিচয়ে ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রাইভেট পড়ার সুবাদে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। তখন ছাত্রীর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ দেলোয়ার হোসেন ওই ছাত্রীর জোরপূর্বক কিছু আপত্তিকর স্বীকারোক্তি কাগজে লিখিয়ে নেন ও ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ও কাগজের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। মামলার অপর আসামি শংকর চন্দ্র মজুমদার এই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়। অভিযুক্ত দেলোয়ার ওই ছাত্রীর স্বামীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তার স্বামীর কাছে পাঠায়। ফলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর আসামিরা পুনরায় তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেয় এবং টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করে।
সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল ওই ছাত্রী নোয়াখালী মহিলা কলেজে অনার্স পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আসামিরা তার পথরোধ করে পুনরায় কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই ছাত্রী প্রথমে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালত অভিযোগ করলে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।’



