যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি শিক্ষার্থী বৃষ্টি নিহত, গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি শিক্ষার্থী বৃষ্টি নিহত, গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে মাদারীপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গতকাল শনিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, এ মর্মান্তিক ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা; তারা দাবি করেছেন দ্রুত বিচারের।
নিহত বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুর এলাকার এটিএম বাজারের বাসিন্দা জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। তার মা আলভী বেগম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিয়ায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে করছিলেন পিএইচডি এবং ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জহির উদ্দিন আকন দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ঢাকার মিরপুরে। বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ সময়ে পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে আসতেন তারা। বৃষ্টির বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং বড় ভাই জাহিদ হাসান একজন প্রকৌশলী। পরিবারের গর্ব ছিলেন বৃষ্টি, যার মেধা ও সাফল্যে সবাই আশাবাদী ছিলেন।
গত শনিবার সকালে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার। এর আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার।
পরে জানা যায়, বৃষ্টি ও তার এক সহপাঠী নিহত হয়েছেন, যদিও সহপাঠীর মরদেহ উদ্ধার হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রামের বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সবার মাঝে নেমে আসে গভীর শোক। তারা দ্রুত বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান অপরাধীদের।
বৃষ্টির স্বজনরা জানান, অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছিলেন বৃষ্টি। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ।
নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন বললেন, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। এখন তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনা ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে দোষীদের।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানালেন, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। এ ধরনের ঘটনায় মূল ভূমিকা রাখে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস। তবে পরিবার চাইলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে এবং দূতাবাস তথ্য চাইলে তা করা হবে প্রদান।



