বাগানের ভেতর মাটির নিচে মাদকসেবীদের আস্তানা

বাঙ্কারের মুখ
নির্জন বাগানের ভেতর মাটি খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে বাঙ্কার৷ নিচে নামার জন্য আছে সিঁড়ি। ভেতরে রয়েছে বিছানা। ৩-৪ জন অনায়াসে থাকতে পারবেন সেখানে। দিন-রাত যার ভেতরে চলে মাদকসেবন। চলে মাদক ব্যবসাও।
এমন ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে। গত ২-৩ দিনে বাঙ্কারটি নিয়ে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। অনেকেই কৌতুহলবশত দেখতে আসছেন বাঙ্কারটি। অভিযোগ রয়েছে দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন সাহার ছেলে সুজন সাহা ওরফে ভক্তর নামে। অভিযোগ অনুযায়ী সুজন সাহা তাদের বাড়ির পাশের বাগানের ভেতর বাঙ্কার তৈরি করে দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা করে আসছে। সেখানে মাদক নিয়ে দিন-রাত কার্যক্রম চলে তার। ভয়ে এলাকার মানুষ কিছু বলতে পারে না। স্থানীয়রা জানান, সুজন সাহা দীর্ঘদিন থেকে মাদক সেবন ও বিক্রি করে আসছেন।
এর আগেও তার মাদকের আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়রা। এখন আবার বাগানের ভেতর মাটির নিচে আস্তানা করেছে সে। প্রতিদিনই বাড়ির উপর দিয়ে আসা-যাওয়া করে লোকজন। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। স্থানীয় টুটুল পাটোয়ারী জানান, সুজন সাহা একজন মাদক ব্যবসায়ী। বাগানের ভেতর মাটির নিচে আস্তানা করে মাদকের আসর বসায় সে। সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাদকের কারবার করে সুজন। পুলিশ আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর থেকে লাপাত্তা মাদক ব্যবসায়ী সুজন সাহা। বাঙ্কারটির ভিডিও নেটে ছড়িয়ে পড়লে রাতের আঁধারে তা গুড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় সে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল রায়ের ভাষ্য, আমাদের এলাকা থেকে মাদকের নির্মূল চাই আমরা। সেই সাথে যারা মাদক সেবন ও বিক্রি করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। সুজন সাহার বাড়িতে গেলে পাওয়া যায়নি তাকে। তার স্ত্রী সুবাঙ্কা সাহা বলেছেন, বাঙ্কারটি তার স্বামীর বানানো। মূলত সেখানে বসে সুজন সাহা আড্ডা দিত ও সিগারেট খেত। এটুকুই তার জানা আছে বলে জানান সুবাঙ্কা সাহা। সুজন কোথায় আছে তা জানেন না বলে দাবি সুজনের স্ত্রীর।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমীর ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বাগানের ভেতরে মাদকের আস্তানার বিষয়টি আমরা জেনেছি। অনুসন্ধানের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ কাজেমী।



