ভুট্টাক্ষেতে মিলল শিশুর লাশ, জড়িত সন্দেহে দুজনকে হত্যা

নিহত আতিকা আক্তার। ছবি: আগামীর সময়
বিকেলের আলো তখন ফিকে হয়ে আসছিল ধীরে ধীরে। পরিবেশটা আরও আনন্দঘন তৈরি করেছিল একটি বিয়ের উৎসব। পাশের বাড়ির সেই বিয়েতে সাজগোজ করে ছোট্ট আতিকা গিয়েছিল বাবা মায়ের হাত ধরে। সেখানে গিয়েই অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠে সে। কিন্তু কে জানত, এই বিয়ের উৎসবই হয়ে উঠবে তার জীবনের শেষ যাত্রা।
বিয়েতে যাওয়ার কিছু সময় পর হঠাৎ করেই হারিয়ে যায় আতিকা। পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে চারদিকে খুঁজতে থাকেন, ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ আর আতঙ্ক। সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মাইকিং করে পুরো এলাকায় খোঁজা শুরু হয় তাকে।
অবশেষে রাত ১০টার দিকে নিস্তব্ধ একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশু আতিকার নিথর দেহ।
তারপর শুরু হয় ভাঙচুর, আগুন, আর গণপিটুনি। হত্যার কারণ ও সন্দেহে পাল্টা রক্তপাতে শেষ হয় আরও দুজনের জীবন।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া এলাকায়। নিহত শিশু আতিকা আক্তার ওই এলাকার দুদল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিয়েতে চাচাতো ভাই আলী (৬) সঙ্গে ছিল আতিকা। আলী জানায়, আতিকাকে প্রতিবেশী কিশোর নাঈমের সঙ্গে যেতে দেখেছে। পরে সন্দেহভাজন নাঈমকে জিজ্ঞাসা করলে সে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতের কথা জানায়। নাঈমের কথামতো সেখানে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার মরদেহ দেখতে পান আতিকার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই হত্যা করা হতে পারে শিশুটিকে।
মরদেহ উদ্ধারের পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে এলাকাজুড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন নাঈমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং জড়িত সন্দেহে গণপিটুনি দেয় কয়েকজনকে। এতে নিহত হন নাঈমের বাবা পান্নু মিয়া (৪৫) ও তার ভাই ফজলু (২৮)।
এ ছাড়া গুরুতর আহত হন নাঈমের ভাই নাজমুল (২২)। তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে।
পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে শিশুটির মরদেহ। শনাক্ত করা হচ্ছে জড়িতদের। পাশাপাশি গণপিটুনির ঘটনাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



