জ্বালানি সংকটে সাশ্রয়ের পথ খুঁজছে সিএমপি
- কম গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্ট ও টহল ডিউটি আপাতত বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন কর্মকর্তারা

ছবিঃ আগামীর সময়
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে দেশে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। আর এ সংকট কমাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পথ খুঁজছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
এজন্য, পুলিশের নিজস্ব যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি কম গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্ট ও টহল ডিউটি আপাতত বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন কর্মকর্তারা।
সিএমপিতে বর্তমানে কর্মরত জনবলের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী যানবাহন শাখাকে জ্বালানি সংকোচনের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে, সিএমপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবেশক প্রতিষ্ঠান পদ্মাকে চিঠি দিয়ে পুলিশের যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বললেন, 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদের সব ধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। জ্বালানির কারণে এতে কোনো সমস্যা এখনো হচ্ছে না। তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ যাতে অপচয় করা না হয়, সবক্ষেত্রে যেন সাশ্রয়ের মনোভাব থাকে, সেই বিষয়ে আমাদের পরামর্শ আছে।'
নগর পুলিশের যানবাহন শাখার তথ্য থেকে জানা যায়, নগরীর ১৬ থানা ও বিভিন্ন ইউনিট মিলিয়ে যানবাহনের সংখ্যা মোট ৭৫৮টি। এর মধ্যে সরকারি যান ৪৯৬টি এবং ভাড়ায় চালিত ২৬২টি। যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল ৪৫২টি। অন্যান্য যান ৩০৬টি। ডগ স্কোয়াড ভ্যানও রয়েছে।
যানবাহন শাখা আরও জানায়, ‘এসব যানবাহনের জন্য ডিজেল, অকটেন ও মবিল মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার লিটার জ্বালানি লাগে। তেলের চাহিদা হিসেব করে মাসে দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ হয়। নগরীর দামপাড়ায় সিএমপি ফুয়েলিং স্টেশন থেকে নগর পুলিশের যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে এখন।’
বাজেট এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এখনো কোনো সংকট তৈরি হয়নি জানিয়ে নগর পুলিশের যানবাহন শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান রাজ বলেছেন, 'তেলের বাজেট হয় প্রতি তিন মাস পর পর। এই বছরের প্রথম বাজেট অবশ্য এখনো হয়নি। আমরা আগেভাগে মন্ত্রণালয়, বিপিসি এবং পদ্মা অয়েলকে চিঠি দিয়ে ফুয়েল সাপ্লাই স্বাভাবিক রাখার জন্য অনুরোধ করেছি।’
’আমরা কম গুরুত্বপূর্ণ টহলগুলো সীমিত করার প্রস্তাব দেব। নির্বাচন উপলক্ষে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। ৩৯টি চেকপোস্ট এখনো রয়ে গেছে। সেগুলো কমানোর বিষয়েও প্রস্তাব দেয়া হবে, মন্তব্য করেন ওসি।



