শেরপুরে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, মিলছে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ

ছবি: আগামীর সময়
শেরপুরের এসএসসি পরীক্ষার্থী তিথি আক্তার। ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছেন না লোডশেডিংয়ের প্রভাবে।একই অবস্থা এখানকার অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও।
তিথি অভিযোগ করলেন, ‘দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা করতে পারছি না। গরমে পড়ার টেবিলে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়।’
শেরপুরে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন লোকজন। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরও।
জেলার পাঁচটি উপজেলায় তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে দিনে ৮ থেকে ১০ বার, কোথাও আধাঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা থাকে না। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন জেলার বাসিন্দারা।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) শেরপুর জেলার কর্মকর্তারা জানান, পিডিবির মোট গ্রাহক প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার। বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪২ মেগাওয়াট। তবে গত তিন-চার দিন ধরে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। এতে প্রতিদিন বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট। কিছু দিন আগে সরবরাহ আরও কম ছিল। পিডিবির আওতায় জেলায় প্রায় পাঁচহাজার সেচ সংযোগ এবং ৯০টি শিল্প সংযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার। এ খাতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। জেলায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে কৃষি সেচ সংযোগ রয়েছে ১০ হাজার ৮৭৯টি।
ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। ইরি ধানে সঠিকভাবে সেচ দিতে না পারায় শঙ্কা দেখা দিয়েছে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার।পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারিরাও। শিশু ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়েছেন।
এছাড়া শেরপুরের তিনটি পাহাড়ি উপজেলায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। পাহাড়ি এলাকা ও গাছপালায় ঘেরা অঞ্চলে সামান্য ঝড়ো বাতাস হলেই ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, যা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
শ্রীবরদী উপজেলার চিথলিয়ার আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো ছিল। এখন দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে ১১টার পর এক-দুই ঘণ্টা থাকে, তারপর আবার নেই। এতে ইরি ধানের সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শেরপুর শহরের খোয়ারপাড় শাপলা চত্বর মোড়ের ব্যবসায়ী আব্দুল বারেক বলেছেন, ‘লোডশেডিং এত বেশি যে আইপিএসের চার্জও শেষ হয়ে যায়। দোকান অন্ধকার হয়ে যায়, গরমে ক্রেতারা বসতে চান না। ফলে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শেরপুর জেলা শাখার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন আহমদ বললেন, ‘প্রতি ঘণ্টায় ওঠানামা করে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় দিতে হচ্ছে লোডশেডিং। আমরা চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছি, যার কারণে দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’
শেরপুর জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কারণে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে গত তিন-চার দিন ধরে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, ফলে কিছুটা কমেছে লোডশেডিং। তারপরও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে সপ্তাহ খানিকের মধ্যে।



