আগামীর সময়

নাটোরে হাম আক্রান্ত ১৩ শিশু, হাসপাতালে ৬

নাটোরে হাম আক্রান্ত ১৩ শিশু, হাসপাতালে ৬

ছবিঃ আগামীর সময়

নাটোরে শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে গত কয়েক দিনে ১৩ জন শিশুর শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ৬ জন শিশু হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও ভাইরাসের বিস্তার রোধে জরুরি পরামর্শ দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

নাটোর সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ১৩ জনের শরীরে হামের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়।

গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত ৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলেও গতকাল ২৯ মার্চ একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৬ জন শিশুর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা হলো মারিয়া খাতুন (আগদিঘা), ফাহমিদা খাতুন (হরিশপুর), মিতা (আগদিঘা), আরহাম (সরপুটিয়া), হুমায়ুন (লালমনিপুর) এবং মোহাম্মদ আলী (লক্ষীকোল)।

হাসপাতালে আসা শিশুদের মায়েদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা গেছে। আগদিঘা গ্রাম থেকে আসা শারমিন খাতুন জানান, তার সন্তানের প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরে ব্যথা, কিছুই মুখে তুলছে না।

আরেক অভিভাবক শম্পা খাতুন জানান, সারারাত কান্নাকাটি করার পর সকালে শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসে ডাক্তারের অপেক্ষায় আছেন।

নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয়জন শিশুই আশঙ্কামুক্ত। তিনি বলেছেন, দেশে হামের প্রকোপ বেড়েছে, তাই আমরা নাটোরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।

‘শিশুর শরীরে জ্বর ও র‍্যাশ (লালচে দানা) দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আক্রান্ত শিশু সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। যেসব শিশু এখনো হামের টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে’, অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. কামাল।

    শেয়ার করুন: