টেন্ডার বাক্স ছিনতাই
রাজশাহীতে যুবদলের দুই নেতা বহিষ্কার

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছে যুবদলের দুই নেতাকে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) মাসুদুল হক মৃধা মোমিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কার হওয়া নেতারা হলেন যুবদলের রাজশাহী মহানগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের (দক্ষিণ) আহ্বায়ক মো. ধলু এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করেন।
এতে আরও বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংগঠনের নীতি ও আদর্শপরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং আরডিএ কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এবং অশোভন আচরণের কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
একই সঙ্গে জানানো হয়, বহিষ্কার হওয়া নেতাদের কোনো অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে আরডিএর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটান স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা বাক্স থেকে সব দরপত্র বের করে দেখেন। পরে বাক্সটি ফেরত দেন।
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি শৌচাগারের পুরনো দুটি বিলবোর্ড, আরডিএ পার্কের ছোট-বড় ২৭টি গাছ, ঢাকা লিঁয়াজো অফিসের পাঁচটি সোলার প্যানেল, ১৪টি ব্যাটারি, লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ কিছু পুরনো জিনিসপত্র বিক্রির জন্য সম্প্রতি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। শেষ দিন সকাল থেকেই টেন্ডার বাক্সের পাশে পুলিশ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সেখানে দরপত্র জমা দিতে যান। এ সময় তারা দাবি করেন, আগেই কিছু দরপত্র বাক্সে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আগে যেসব দরপত্র বাক্সে পড়েছে, সেগুলো বাদ দিতে হবে। এখন শুধু তারাই দরপত্র দাখিল করবেন। আরডিএ কর্মকর্তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন, গত ২৭ এপ্রিল থেকেই দরপত্র দাখিল চলছে। কিন্তু ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক মো. ধলু কোনো কথা না শুনে পুলিশের সামনে থেকেই টেন্ডার বাক্স নিয়ে অফিসের করিডরে চলে যান। টেন্ডার বাক্স থেকে আগের দরপত্রগুলো বের করা হয়। পরে বাক্সটি পুলিশকে ফেরত দেওয়া হয়।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের সময় পুলিশকে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম, যুবদল নেতা শরিফ, সাগর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুনসহ আরও কয়েকজনকে দেখা যায়। বাক্সটি ফেরত দেওয়ার পর দুপুর আড়াইটায় খোলা হয়। তখন চারটি গ্রুপে মোট ৯টি দরপত্র বাক্সে পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি গ্রুপের জন্য বাক্সে দরপত্র ছিল পাঁচটি। বাকি তিনটি গ্রুপের দরপত্র পাওয়া যায় চারটি। মাত্র আড়াই লাখ টাকার এই জিনিসপত্র কিনতে প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল কিনেছিলেন।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘পুলিশের সামনেই দরপত্র বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদের দাবি ছিল যে আজ যেগুলো জমা হবে, শুধু সেগুলোই নিতে হবে। তারা বাক্স থেকে অন্য দরপত্র বের করে দেখেছেন। সেগুলো পরে বাক্সে ঢোকানো হয়েছে কি না জানি না। বাক্স অফিস ছাড়া অন্য কেউ খুলতে পারে না। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেছেন, ‘তারা ভুল বুঝে বাক্স নিয়ে গিয়েছিল। পরে ভুল বুঝতে পেরে বাক্স ফেরত দিয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরডিএ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। তা না হলে পুলিশই নেবে।’



