টঙ্গীতে বাবা-ছেলের মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে বড় ছেলে

ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্যময় পরিস্থিতির। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বড় ছেলেকে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, টঙ্গীর ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বনমালা এলাকায় নিজ টিনশেড ঘর থেকে প্রথমে সাকিবুর রহমান শোয়েবের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় সোহেল রানার (৪৮) মরদেহ।
নিহত সাকিব উত্তরার আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সোহেল পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (জোগালি) ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে। মাদকসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল এই পরিবারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সাকিবের শরীরের আঘাতের ধরন অস্বাভাবিক। তার মাথার পেছনে গভীর জখম রয়েছে এবং ডান হাতের কব্জি ও বাম পায়ের গোড়ালির ওপরের অংশ অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কাটা হয়েছে। এসব আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি সাধারণ পারিবারিক বিরোধ নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে, বাবা সোহেল রানার মরদেহ পাশের রেললাইন থেকে উদ্ধার হওয়ায় আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে ঘটনাটি। এটি আত্মহত্যা, নাকি হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনার সময় একই ঘরে থাকা বড় ছেলে সাইফুর রহমান (২৮)-এর বক্তব্যে অসংগতি পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।



