চুয়াডাঙ্গা
আ. লীগ চেয়ারম্যানদের দপ্তরে ফেরা ঘিরে সংঘর্ষ-ধাওয়া

ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানদের দাপ্তরিক কাজে যোগদানকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। খাদিমপুর ইউনিয়নে ঘটেছে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অবরুদ্ধের ঘটনা। একই সময়ে নাগদাহ ও কালিদাসপুর ইউনিয়নেও দুই চেয়ারম্যানকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ঘটনার সূত্রপাত।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সাময়িক অপসারণের পর হাইকোর্টের আদেশে পুনরায় দায়িত্ব পালনে যোগ দিতে আসেন চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস। তিনি কার্যক্রম শুরু করলে ক্ষুব্ধ একদল লোক পরিষদে গিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলগুলো ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস অভিযোগ করে বলছেন, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করছিলেন, এ সময় একদল লোক পরিষদে এসে তাকে ঘেরাও করে এবং হামলা চালায়। কিছু সময়ের জন্য তাকে অবরুদ্ধ রাখা হয়। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, একই সময়ে নাগদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে নিজ নিজ পরিষদ থেকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারাও দাপ্তরিক কাজে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে সেখানেও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশসূত্র জানাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ৫ আগস্ট খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে সাময়িক অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টে রিট করলে তিনি পুনরায় পরিষদে বসার অনুমতি পান।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষ্য, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। খাদিমপুরের ঘটনায় আটক করা হয়েছে জসিম নামে একজনকে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
এদিকে, একই ধরনের রিটের প্রেক্ষিতে আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাসফির আহমেদ লাল এবং ডাউকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামও পরিষদে বসে দাপ্তরিক কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন।




