পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন, দিশেহারা কিশোরগঞ্জের কৃষকরা

ছবি: আগামীর সময়
টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও ঘন ঘন বজ্রপাতের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ কৃষি বিপর্যয়। গত রবিবার বিকাল থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর পাকা বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে পানিতে।
এমন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নামছেন কৃষকরা। কেউ কোমর পানিতে নেমে কাটছেন ধান, কেউ নৌকার সাহায্যে তুলছেন ফসল, আবার কেউ পানিতে ডুব দিয়ে চেষ্টা করছেন নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান উদ্ধারের। তবে বজ্রপাতের ভয়ে অনেকেই যেতে পারছেন না মাঠে। ইতোমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাত ধান কাটার কাজ ব্যাহত করছে মারাত্মকভাবে। তিনি বললেন, ধান যদি পাঁচ থেকে ছয় দিন পানির নিচে থাকে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই দ্রুত অন্তত ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে ফেলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টরে চাষ হয়েছে বোরো ধান। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৩৫ হেক্টর, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৬২ শতাংশ। এ বছর প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার টন ধান এবং ৭ লাখ ৯৬ হাজার টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছে নির্ধারণ। ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ ধান কাটা।
মিঠামইন উপজেলার হাছানপুর গ্রামের কৃষক সলিমুল্লাহ জানালেন, তার পাঁচ একর জমি ডুবে গেছে পানিতে। সময়মতো খাল খনন করা হলে হয়তো সৃষ্টি হতো না এমন পরিস্থিতি। পাশাপাশি টানা বৃষ্টির কারণে রোদ না থাকায় ভুট্টা শুকাতে না পারায় সেটিরও আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে নষ্ট হওয়ার।
একই উপজেলার কৃষক খলিল মিয়া জানিয়েছেন, প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে আবাদ করা জমিতে এখন জমে রয়েছে এক হাত পানি। শ্রমিক ও কৃষিযন্ত্রের সংকটে সম্ভব হচ্ছে না ধান কাটাও। আরেক কৃষক মোহাম্মদ আলী বলছেন, ১০ একর জমিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চাষ করা ধান তুলতে পারেননি এখনো ঘরে। ঋণের বোঝা কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে পড়েছেন তিনি দুশ্চিন্তায় ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, আরও খারাপ হতে পারে পরিস্থিতি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকালের মধ্যে বাইরের পানি প্রবেশ করতে পারে হাওরে, কারণ নদ-নদীর পানি বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে। এর মধ্যে ইটনা উপজেলা হয়েছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।



