শাহজালালের ৭০৭তম ওরস শুরু, মাজারে ভক্তদের ঢল

ছবি: আগামীর সময়
উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের অন্যতম পথিকৃৎ হযরত শাহজালাল-এর ৭০৭তম ওরস বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। দু'দিনব্যাপী এ ওরস শুক্রবার রাত ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। এর আগে ভোরে আখেরি মোনাজাত, শিরনি বিতরণ, বাদ জোহর মিলাদ মাহফিল ও বাদ আসর শরবত বিতরণের আয়োজন রাখা হয়েছে।
ওরসে অংশ নিতে বুধবার থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত-আশেকানরা মাজারে আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দরগাহ প্রাঙ্গণ ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। সকালে গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দল বেঁধে আসা ভক্তদের হাতে ছিল নানা রঙের গিলাফ, মুখে ছিল ‘লালে লাল, বাবা শাহজালাল’ ধ্বনি।
মাজারের খাদেম সামুন মাহমুদ খান জানিয়েছেন, গিলাফ চড়ানোর পাশাপাশি খতমে সফিনা, কোরআনখানি ও গভীর রাত পর্যন্ত মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আখেরি মোনাজাত শেষে শিরনি বিতরণ করা হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন দরগাহ মসজিদের মোতোয়াল্লি ফতেউল্লাহ আল আমান। ওরস উপলক্ষে শতাধিক গরু ও খাসি দান পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ওরসের সব আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের পৃথক টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মাজার থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও গিলাফ প্রদান করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ভক্ত-আশেকানরা গিলাফ চড়ান। এ কার্যক্রম সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে।
ওরস উপলক্ষে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি গরু মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। গত সোমবার বিকেলে তিনি মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেউল্লাহ আল আমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপহারটি তুলে দেন।
প্রতিবছর ১৯ ও ২০ জিলকদ দুই দিনব্যাপী এ ওরস অনুষ্ঠিত হয়। এবার ৭০৭তম আয়োজনকে ঘিরে পুরো সিলেট নগরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভক্ত-আশেকানদের স্বাগত জানাতে নগরের বিভিন্ন মোড়ে তোরণ ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে।
প্রায় সাড়ে সাতশ বছর আগে ৩৬০ আউলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এই অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের বাণী প্রচার করেন হযরত শাহজালাল (রহ.)। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা জানান, শাহজালালের প্রতি ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক টানেই প্রতিবছর নানা কষ্ট সহ্য করে তারা ওরসে অংশ নিতে আসেন। নিজেদের জীবনের শান্তি ও দেশের মঙ্গল কামনায় তারা মোনাজাতে অংশ নেন।
শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বী নয়, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে দরগাহ প্রাঙ্গণ যেন এক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।



