‘সেতুটি কখন ভেঙে পড়ে, কাজ করে সেই শঙ্কা’

ছবি: আগামীর সময়
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়া গ্রামের একটি সেতু জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। সম্পূর্ণ ভেঙে নিচে পড়ে গেছে সেতুটির একপাশের রেলিং। অপর পাশের রেলিং আংশিক ভেঙে ঝুলে আছে। পলেস্তারা উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ভেতরের রড। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেতুটি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রায় এক যুগ ধরে মেরামতের অভাবে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে সেতুটি। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও যানবাহন।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে জানা যায় এ সব তথ্য।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাসির তালুকদার বলেছেন, ‘প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত হয়েছে সেতুটি। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় সেতুটি নিয়ে। কখন ভেঙে পড়ে সেই শঙ্কা কাজ করে। নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি ফিরবে না এলাকাবাসীর।’
এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিদিন এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল অন্তত ১০ হাজার মানুষ। জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এ সেতুটিই ব্যবহার করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
নারানদিয়া গ্রামের এক ভ্যানচালক জানান, এই সেতু পার হয়েই যেতে হয় ময়েনদিয়া বাজারে, যা এলাকার সবচেয়ে বড় হাট। হাটের দিন কৃষিপণ্য নিয়ে চলাচল করতে হয় চরম ঝুঁকি নিয়ে। মাঝেমধ্যে উপজেলার কর্মকর্তারা এসে মাটি পরীক্ষা করলেও এখন পর্যন্ত নেই দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি।
মোটরসাইকেলচালক রুবেল ইসলাম জানান, একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে এখানে। সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারে না বড় যানবাহন। সেতুর ওপর উঠলেই কাঁপতে থাকে। ভয় নিয়েই চলাচল করতে হয়।
দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া বলেছেন, ‘প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে সেতুটির বিষয়ে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে প্রস্তাব।’




