হামে নিঃস্ব পরিবার
চার মাসের শিশু দুই মাস ধরে হাসপাতালে

চার মাসের বাচ্চা নিয়ে দুই মাস ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি পরিবার। অসুস্থ শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসে আছে নানী পারভীন বেগম। ছবি : আগামীর সময়
সন্তানের চিকিৎসা করাতে তিনটি গরু বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একটি পরিবার। তবুও থামেনি তাদের সংগ্রাম। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার মাস বয়সী এক শিশুকে বাঁচাতে দুই মাস ধরে লড়াই করে যাচ্ছেন মা শাহিদা খাতুন।
ওই হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে শিশুটি। কিছুদিন আগেও সে ছিল আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এখন অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও কাটেনি অনিশ্চয়তা। আর শেষ হয়নি পরিবারের দুর্ভোগও।
শাহিদা খাতুনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার নয়দিয়াড়ী সিরোটোলা গ্রামে। তার স্বামী ডালিম আলী দিনমজুর। অভাবের সংসারে সন্তানের অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সংকট। শাহিদার ভাষ্য, বাচ্চাটার বয়স চার মাস। এর মধ্যে দুই মাসই হাসপাতালে কাটছে।
প্রথমে ঠান্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে শিশুটি। পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। দুই মাস বয়সে প্রথমবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। টানা ২০ দিনের চিকিৎসার মধ্যে তিন দিন ছিল আইসিইউতে। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও দুই দিনের মাথায় শরীরে হাম দেখা দেয় তার। আবার ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে।
দ্বিতীয় দফায় ভর্তি হওয়ার পর আরও অবনতি ঘটে শিশুটির শারীরিক অবস্থার। নিউমোনিয়া, ফুসফুসের জটিলতা ও সংক্রমণ দেখা দেয় রক্তে। কয়েকবার আইসিইউতে রেখে দিতে হয় চিকিৎসা। সর্বশেষ ১০ দিন আইসিইউতে থাকার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে নেওয়া হয় তাকে।
হাসপাতালের করিডোরেই দিন কাটছে শাহিদার। পাশে রয়েছেন তার মা পারভীন বেগম ও সাত বছরের ছোট বোন সুমাইয়া। শিশুটির বাবা দিনমজুরের কাজ করেন গ্রামে। আর্থিক সংকটের কারণে শহরে এসে থাকা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে।
চিকিৎসার ব্যয় জোগাতে গিয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। শাহিদার বাবা জুয়েল আলী রিকশা চালান ঢাকায়। নাতির চিকিৎসার জন্য বিক্রি করেছেন নিজের তিনটি গরু। এতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। পারভীন বেগম বলেছেন, ‘আমাদের আর কিছুই নেই। শেষ হয়ে গেছে সব।’
কিছুদিন আগে নাতিকে দেখতে রাজশাহীতে এসেছিলেন জুয়েল আলী। কিন্তু তখন শিশুটি আইসিইউতে থাকায় দেখা হয়নি। চোখে কান্না নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। দোয়া চাওয়া হয়েছে গ্রামের মসজিদে। সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করেছেন প্রতিবেশীরাও।
শাহিদা জানিয়েছেন, টাকা না থাকায় আমরা চলে যেতে চেয়েছিলাম; কিন্তু বাচ্চার অবস্থা দেখে থাকতে হচ্ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়েছে। তবে সংকট রয়েছে পরিবারের থাকা ও খাওয়ার ব্যয় নিয়ে।
তার ভাষ্য, শিশুটি এখন অনেকটা সুস্থ। আশা করছি, এক থেকে দুই দিনের মধ্যে দেওয়া যাবে ছাড়পত্র।



