সুনামগঞ্জ
ধান শুকানোর আগেই ক্ষতি, স্তূপেই গজাচ্ছে চারা

জলাবদ্ধতা ও খলায় রাখা ধানে অঙ্কুরোদগম। ছবি: আগামীর সময়
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের। জলাবদ্ধতা ও খলায় রাখা ধানে অঙ্কুরোদগম হওয়ায় কৃষকরা হয়ে পড়েছেন দিশেহারা।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক সত্যেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছিলেন বোরো ধান। মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশা থাকলেও হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে ভেঙে গেছে সেই স্বপ্ন। তিনি অর্ধেক ধান কেটে খলায় মাড়াই করে স্তূপ করে রেখেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেগুলো ভিজে গিয়ে ধান থেকে গজিয়ে উঠেছে চারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সামান্য রোদ উঠতেই স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ধান মেলে শুকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তার ভাষ্য, আড়াই হাল জমিতে আবাদ করা হয়েছিল ধান। যা কেটেছি, তারই এই অবস্থা। হাওরের বাকি ধান বর্তমানে পানির নিচে। এখন কীভাবে ক্ষতি সামলাব বুঝতে পারছি না।
একই হতাশা প্রকাশ করেন তার স্ত্রী সীমা বর্মণ। তিনি বলছিলেন, অনেক কষ্ট করে ধান ফলিয়েছি, কিন্তু বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে সব। এই ধান আর আসবে না কোনো কাজে। এই গ্রামের বাসিন্দা সুষমা বর্মণও তুলে ধরেন একই পরিস্থিতির কথা।
তিনি জানাচ্ছিলেন, কয়েকদিন আগে ধান কেটে কিছু শুকালেও বাকি অংশ রাখা ছিল খলায় স্তূপ করে। সোমবার থেকে টানা বৃষ্টিতে সেগুলো ভিজে গিয়ে বের হয়েছে অঙ্কুর। বৃহস্পতিবার রোদ উঠলে স্তূপ ভেঙে দেখেন, সব ধান হয়ে গেছে নষ্ট।
এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাওরে। কৃষকরা বৃষ্টি থামলেই ধান স্তূপ থেকে রোদে দিচ্ছেন মেলে। কেউ কেউ ধান বস্তায় ভরে পানিতে রেখে দেওয়ার করছেন চেষ্টা, যাতে অন্তত রক্ষা করা যায় কিছুটা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানালেন, জেলায় কাটা হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান। তবে জলাবদ্ধতার কারণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর।




