সামনে পড়া সব দুমড়ে-মুচড়ে চলতে থাকে পিকআপ, নিহত ১

ছবি: আগামীর সময়
রাত ১২টা বাজতেই ব্যস্ততম কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে কমে আসে যান চলাচল। উখিয়া উপজেলার কোটবাজার স্টেশন অংশের সড়কে শুরু হয় সংস্কারকাজ। রাত দেড়টার দিকে মাথায় সিমেন্টের ডালা নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন শ্রমিক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম। বেপরোয়া গতির পিকআপের ধাক্কায় মুহূর্তেই নিথর তিনি। এরপর সামনে পড়া সব দুমড়ে-মুচড়ে চলতে থাকে তরমুজবোঝাই পিকআপটি। রবিবার মাঝরাতের এমন তাণ্ডবে হতবাক প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নিহত রবিউলের (২২) বাড়ি মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। ঘটনা নিশ্চিত করেছেন শাহপরী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। জানিয়েছেন, পিকআপটি জব্দ, তবে পলাতক চালক।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফের দিকে যাচ্ছিল দ্রুতগতির পিকআপটি। কোটবাজার স্টেশনে রবিউলকে ধাক্কা দিয়ে ছুটতে থাকে একই গতিতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা, পিকআপ আটকাতে কোটবাজার এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে উখিয়া থানা ফটকের সামনে কয়েকটি অটোরিকশার ব্যারিকেড দেয় স্থানীয়রা। সেসব ধাক্কা দিয়ে চলে যায় পিকআপটি।দুমড়ে-মুচড়ে যায় সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অন্তত চারটি যানবাহন।
গুরুতর আহত রবিউলকে স্থানীয়রা নেয় উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
উখিয়া সদরের দোকানদার আমিন শরীফ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। ‘পালানোর সময় পিকআপটি মহাসড়কে তাণ্ডব চালিয়েছে। সামনে যা পেয়েছে, তা-ই চাপা বা ধাক্কা দিয়েছে। জীবনে এমন বেপরোয়া গাড়ি চালাতে দেখিনি। মনে হচ্ছিল, সামনে কেউ পড়লে, তাকে পিষে দেবে’- আতঙ্ক স্পষ্ট আমিনের কণ্ঠে।
কোটবাজার এলাকায় থাকেন মোহাম্মদ হারুন। দুর্ঘটনার পর তিনিসহ স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে পিকআপটির পিছু নেন।
‘রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় পিকআপটি আটকানো হয়। তবে চালক পালিয়ে যায়।’
‘চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সড়ক নিরাপত্তা আইনে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে’- বললেন শাহপরী হাইওয়ে থানার ওসি।
তার প্রাথমিক ধারণা, ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ চালক দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পরে আত্মরক্ষার জন্য গাড়ির গতি বাড়িয়ে সুবিধাজনক স্থানে নেমে পালিয়েছে।’



