বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘একাডেমিক শাটডাউন’ ঘোষণা

সংগৃহীত ছবি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পদোন্নতির দাবিতে একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন ২২ এপ্রিল থেকে। তাদের দাবি পূরণ না হলে ২১ এপ্রিল থেকে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরপরও যদি দাবি না মানা হয়, তবে নেওয়া হবে কঠোর কর্মসূচি। ২২ এপ্রিল থেকে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সব শিক্ষকদের কার্যক্রম রাখা হবে বন্ধ।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। এতে সই করেন ১০২ জন শিক্ষক।
এর আগে পদোন্নতির দাবিতে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন গত রাত থেকে ২৪ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষকদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সমাজ উল্লেখ করেছেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় ২৪ জন অধ্যাপকের পদোন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ডগুলোর বৈঠক ও সুপারিশ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সেই সুপারিশ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে একটি ব্যতীত প্রত্যেকটিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির অন্তত ৫টি ব্যাচের কার্যক্রম চলমান রয়েছে পাঠদান।
অথচ এমন অনেক বিভাগ রয়েছে যেখানে শুধুমাত্র ৩/৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকের ৫১টি শূন্যপদ রয়েছে, যেগুলো গত দুই বছর ধরে নিয়োগবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে ৪০১টি শিক্ষকের পদ প্রাপ্য হলেও ছাড়কৃত হয়েছে মাত্র ২৬৬টি।
শিক্ষক সমাজের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিন্ডিকেট অনুমোদিত বিধিমালার ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়ে আসছে পদোন্নতি কার্যক্রম। ইউজিসির সাম্প্রতিক নির্দেশনায় সেই প্রক্রিয়া পড়েছে জটিলতায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেছেন, ‘উপাচার্য বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতির বিষয়ে নানা কথা বললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। একই সময়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করা শিক্ষকরা দীর্ঘদিন আগেই পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পরিচয় দিচ্ছে ব্যর্থতার।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম জানিয়েছেন, পদোন্নতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী সিলেকশন বোর্ড বসানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইউজিসি থেকে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা দিয়ে পত্র পাঠানো হয়। ইউজিসির নির্দেশনার পর আমরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। এ বিষয়ে একাধিক সভা হয়েছে এবং ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত আছে।



