মাইকেল মধুসূদনের সেই বটবৃক্ষ উপড়ে গেছে ঝড়ে

যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ তীরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছটি ঝড়ে উপড়ে পড়েছে। ছবি: আগামীর সময়
যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার বটগাছটি উপড়ে পড়েছে কালবৈশাখী ঝড়ে। কপোতাক্ষ নদের তীরে ৩০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ছিল গাছটি। এর স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত শনিবার দুপুরে প্রবল ঝড়ে সাগরদাঁড়ি গ্রামে কবির বাড়ির পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটি উপড়ে পড়ে। ঝড়ের সময় নদীর ধারেই ছিলেন স্থানীয় জ্যোৎস্না হালদার। হঠাৎ গাছের শেকড়ের নড়াচড়া খেয়াল করেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই উপড়ে পড়ে সেটি।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করে ঘটনাস্থলে। প্রিয় কবির স্মৃতিবিজড়িত শেষ নিদর্শনটি দেখতে আসেন এক নজর। তাদের একজন ব্যাংকার সুদীপ সিংহ রায়। পেশাগত কাজে কেশবপুরে এসে এ খবর শোনেন তিনি। ‘মহাকবির অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত বটবৃক্ষ কবিতাটি এই গাছ ঘিরেই সৃষ্টি। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য, যা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন’- মনে করেন তিনি।
স্থানীয় উজ্জ্বল দত্ত ও মুফতি তাহেরুজ্জামানও স্মরণ করলেন কবিকে। ‘মহাকবি তার শৈশব ও জন্মভূমির স্মৃতি নিয়ে কাব্য রচনার সময় অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন এই বটবৃক্ষ থেকে। এর নিচে বসেই তিনি ভাবতেন সনেটগুলো নিয়ে। আমাদের কাছে এটি শুধু একটি গাছ নয়, ছিল আশ্রয় ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক’- এক সুরে বললেন তারা।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্মৃতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. হাসানুজ্জামানের ভাষ্য, ‘প্রায় তিন শতাব্দী পুরনো এই নিদর্শনের পতনের মধ্য দিয়ে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’
প্রচলিত আইনে প্রত্নসম্পদের আওতায় না থাকায় সরাসরি রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি বটগাছটির, জানিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ওই স্থানে বৃক্ষরোপণ এবং এলাকাটিকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা আছে তাদের।



