ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ
‘মনে হয় যেন এখনই পড়ে যাবে ট্রেন’

ঝুঁকিপূর্ণ জয়পুরহাট রেলপথ। ছবি: আগামীর সময়
রেললাইনের শত শত স্লিপার ভাঙা, নেই নাট-বল্টু ও পেন্ডেল ক্লিপ। এমনকি কোথাও কোথাও ভাঙা লাইনের নিচে দেওয়া হয়েছে বস্তা। ট্রেনের প্রচণ্ড চাপে নড়বড়ে লাইন দেবে যায় এক থেকে দেড় ইঞ্চি। জয়পুরহাটে চরম এই জীর্ণ দশার ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ছুটছে আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন। যেকোনো সময় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কায় দিন পার করছেন যাত্রীরা।
দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে বগুড়ার সান্তাহার পর্যন্ত তেষট্টি দশমিক সাত কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি জয়পুরহাট জেলার অংশেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার তিলকপুর, জামালগঞ্জ, পাঁচবিবি ও বাগজানা অংশে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে আছে রেললাইনের কংক্রিটের শাতাধিক স্লিপার। একই চিত্র পাশের বিরামপুর ও হিলি-হাকিমপুর অংশেও। এসব এলাকার অনেক জায়গায় গায়েব হয়ে গেছে পেন্ডেল ক্লিপ (যা রেললাইনের ওপরের ইস্পাতের পাতকে নিচের স্লিপারের সঙ্গে আটকে রাখে)। অত্যন্ত নড়বড়ে রেললাইনের জোড়াগুলোও।
স্থানীয় কৃষক শাহ আলম ও রফিকুল ইসলাম অভিযোগ জানান, জয়পুরহাট অংশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের জোড়াগুলো নিচু হয়ে থাকায় সেখানে জমে থাকে পানি। যখন ট্রেন যায়, তখন প্রচণ্ড চাপে রেললাইন দেবে যায় এক থেকে দেড় ইঞ্চি এবং ছিটকে ওঠে পানি। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, কোথাও কোথাও লাইন ও স্লিপার ভেঙে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে লাইনের নিচে বস্তা দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পার করা হচ্ছে ট্রেন।
ট্রেন যাওয়ার সময় লাইনের ভয়ংকর দুলুনি দেখে আতঙ্কে থাকেন স্থানীয়রা।
জয়পুরহাটের রেললাইন সংলগ্ন বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম বললেন, ‘এই রেললাইন ভাঙা। ট্রেন যাওয়ার সময় নড়তে থাকে স্লিপারগুলো। মনে হয় যেন এখনই পড়ে যাবে ট্রেনটি।’
আরেক অধিবাসী দীলিপ কুমার দাস বলেছেন, রেললাইনের প্রতিটি জোড়ায় নাটগুলো ঢিলা, নড়বড়ে। কোনো কিছুই ঠিকমতো আটকানো নেই।
অপর এক বাসিন্দা মিজানুর রহমান আতঙ্ক প্রকাশ করলেন, ‘অনেক জায়গায় কাঠের স্লিপার ভেঙে গেছে, আবার লাইনও ভাঙা। এই ভাঙা লাইন ও স্লিপার নিয়ে সব সময় চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকি আমরা।’
বড় কোনো প্রাণহানির ঘটনা গটার আগেই দ্রুত জয়পুরহাটসহ পুরো রেলপথটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বললেন, ইতোমধ্যে যেসব জায়গায় সমস্যা বেশি, সেগুলো পরিদর্শন করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এটি সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে আহ্বান হরা হয়েছে টেন্ডার (দরপত্র)। অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে এই সমস্যাগুলোর।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে গত ১৮ মার্চ লাইচ্যুত হয় একটি ট্রেনের নয়টি বগি। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আদমদীঘির বাগবাড়ি এলাকায়। যেখানে আহত হন প্রায় ২০০ যাত্রী। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় দুর্ঘটনার ২১ ঘণ্টা পর।



