আগামীর সময়

ছাত্রদল নেতা সোহাগ খুন

এক লাশের বদলে দশটা লাশ চাই, বিএনপি নেতার পোস্ট

এক লাশের বদলে দশটা লাশ চাই, বিএনপি নেতার পোস্ট

ছবিঃ আগামীর সময়

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ (২৬) হত্যাকাণ্ডের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর ধারাবাহিক ফেসবুক পোস্ট এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তার পোস্টে প্রতিশোধমূলক বক্তব্য ও পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও থমথমে করে তুলেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের সাঁড়াগোপালপুর স্কুল সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন সোহাগ। এ সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি এসে তার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নিহত সোহাগ ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের ঈশ্বরদী শাখার সদস্যসচিব ছিলেন।

ঘটনার পরপরই দেশের বাইরে অবস্থানরত বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন। একটি পোস্টে তিনি প্রতিশোধমূলক ভাষায় বলেন, ‘একটি লাশের বদলে দশটি লাশ চাই।’ অন্য পোস্টে ঈশ্বরদীর রাজনীতিতে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরও লেখেন, তিনি দেশে না ফেরা পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে। একইসঙ্গে ঈশ্বরদী থানার ওসির বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ তোলেন এবং পুলিশকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

এদিকে পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, নিহতের মাথায় ধারালো ও ভারী অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেছেন, আমরা ঘটনাস্থল ও তদন্ত নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হুমকিমূলক পোস্টগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার নেপথ্যে দলীয় কোন্দলের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ঈশ্বরদীতে দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবীব ও জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত ২৩ মার্চ দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। ফলে সোহাগ হত্যাকাণ্ড সেই দ্বন্দ্বেরই অংশ কিনা—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বর্তমানে ঈশ্বরদীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

    শেয়ার করুন: