হাকালুকি হাওর
বিল শুকিয়ে মাছ শিকার, মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, বিল শুকিয়ে মাছ শিকার, অবৈধ জাল বাণিজ্য ও উৎকোচ গ্রহণসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত আবেদন করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে।
বুধবার কাদির নামের এক ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করেন এ অভিযোগ। এতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয় কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জুড়ীতে কর্মরত থাকার সুবাদে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হাকালুকি হাওরকেন্দ্রিক গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এর মাধ্যমে হাওরের বিভিন্ন বিল থেকে অবৈধভাবে মাছ আহরণ এবং লোপাট করা হচ্ছে বিপুল অর্থ।
সরকারি জলমহাল নীতিমালা উপেক্ষা করে সেচ মেশিন দিয়ে বিল শুকিয়ে মাছ ধরার অভিযোগও ওঠে। চাতলা, তুরল ও নাগুয়াবিলসহ বিভিন্ন বিলে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে একাধিক মেশিন ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ কার্যক্রমকে পরোক্ষভাবে দেওয়া হচ্ছে প্রশ্রয়। কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ আহরণ এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে বিল সেচের মতো কার্যক্রম চললেও তা বন্ধে নেই উদ্যোগ। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন।
জুড়ীর বিভিন্ন বাজারে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রি হয়। এসব দোকান থেকে নিয়মিত আদায় করা হয় মাসোহারা এবং অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জাল জব্দের ঘটনা দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি টানা জাল ব্যবহারকারী জেলেদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও এনজিওর প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে শুঁটকি প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও আত্মসাতের বিষয়টি অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া, উপজেলা পরিষদে ইউএনওর দপ্তর ছাড়া অন্য কোনো কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলেও একজন ইজারাদারের কাছ থেকে উৎকোচ হিসেবে একটি এসি গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, যা প্রশাসনের ভেতরেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিল সংশ্লিষ্ট ফয়েজ আহমেদ, জমির উদ্দিন ও ছবির মিয়া দাবি করেন, তারা জলমহাল নীতিমালা মেনেই বিল পরিচালনা করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
মৌলভীবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রুবেল মাহমুদ জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।



