পুলিশের এসআইকে ‘ম্যাডাম’ ডাকায় যুবককে হয়রানি

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় নূর মোহাম্মদ মামুন নামের এক যুবককে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম রোখসানা খাতুন। তিনি ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল শেরপুর থানায় যোগদান করেন।
ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ শেরপুরের খন্দকারটোলা গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় গাড়িচালক।
তিনি জানান, তার এক গাড়িচালক বন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর শেরপুর থানায় রাখা হয়। সেই বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে থানায় যান তিনি। তখন কর্তব্যরত এসআই রোখসানাকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে তার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে চান। এতে এসআই রোকসানা অসন্তোষ প্রকাশ করে গালাগালি করেন ও একপর্যায়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় তাকে। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিবারের লোকজন গেলে একটি মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
মামুন বলেছেন, ‘আমি তো কোনো অপরাধী না। তারপরেও কেন আমাকে আটকে রাখা হলো? আর আমি তো তাকে (রোখসানা) সম্মান দিয়ে কথা বলেছি।’
জানা যায়, এসআই রোখসানা কাজে যোগদানের পর থেকেই থানায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে রয়েছে অসন্তোষ।
রেজাউল করিম, আলী হাসান ও নাইম ইসলাম অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে থানায় গেলে তারা রোখসানার অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। তাদেরকে ধমক দিয়ে বের করে দেওয়া হয় থানা থেকে। এসব বিষয়ে মৌখিকভাবে থানায় অভিযোগ করেছেন অনেকে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলেনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই রোখসানার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পরপরই তিনি থানা থেকে বের হয়ে যান। মোবাইলে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে এসআই রোখসানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. মঈনুদ্দীন।
তিনি বলেছেন, ‘থানার অন্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছেন রোখসানা। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উনারা আমার কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে রোখসানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।’



