আগামীর সময়

মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

প্রবাসে থেমে গেল চার বোনের একমাত্র ভাই তাজের জীবন

প্রবাসে থেমে গেল চার বোনের একমাত্র ভাই তাজের জীবন

সংগৃহীত ছবি

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা তাজ উদ্দিন ইসলাম। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে যাওয়া সেই প্রবাস জীবনই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল তার মৃত্যুর কারণ। মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে লক্ষ্মীপুরের তাজ উদ্দিনসহ পাঁচ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি নির্মাণকাজের সাইটের গেস্টহাউসে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে থাকা সাত বাংলাদেশি শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের একজন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের আলাদাদপুর গ্রামের তাজ উদ্দিন ইসলাম (২৫)। তিনি আবুল কাশেমের ছেলে।

স্বজনদের ভাষ্য, চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তাজ। সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে মাত্র আট মাস আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি রিসোর্টে কাজ করতেন।

নিহতের খালাতো ভাই আব্দুল খালেক বলেছেন, ‘তাজের চার মাস বয়সী একটি মেয়ে আছে। পরিবারের জন্য কত স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু আজ তার লাশ দেশে ফিরবে। আমরা কিছুই করতে পারলাম না।’

তিনি আরও জানান, তাজের বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন তাজই। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর গেস্টহাউসের ভেতর থেকে সাত বাংলাদেশিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজন মারা যান।

নিহত অন্যরা হলেন মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুই বাংলাদেশি কর্মী জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন চিকিৎসাধীন। তাদের একজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং অপরজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ বলেছেন, ‘আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে হাইকমিশন নজরদারি করছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিতে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রবাসে স্বপ্ন ভাঙার এই মর্মান্তিক খবর ছড়িয়ে পড়তেই লক্ষ্মীপুরের আলাদাদপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের কান্না আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

    শেয়ার করুন: