চেয়েছিলেন ঈদে বাড়ি ফিরতে, আজ এলেন লাশ হয়ে

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের বাড়িতে ঈদ করতে চেয়েছিলেন লিমন। ফিরলেনও, তবে কফিনবন্দি হয়ে। সোমবার বিকালে জামালপুরের মাদারগঞ্জের লালডোবা গ্রামে পৌঁছেছে তার মরদেহ। মাগরিবের নামাজের পর বাড়ির উঠানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।
পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন জামিল আহমেদ লিমন। গত ২৪ এপ্রিল সেখানে উদ্ধার হয় তার রক্তাক্ত মরদেহ। নিথর লিমনকে বহনকারী উড়োজাহাজ আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে পৌঁছায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিকালে জামালপুর আনা হয় মরদেহ।
লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে লিমনকে।
তার বড় চাচা জিয়াউল হক বলেছেন, ‘এবার কোরবানির ঈদে গ্রামের বাড়িতে আসতে চেয়েছিল লিমন। কিন্তু ফিরল লাশ হয়ে। লিমনের মতো এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
এদিকে, লিমনের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছার পর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। লিমনকে শেষবারের মতো দেখতে তার বাড়িতে দেখা যায় স্বজন ও এলাকাবাসীর উপচেপড়া ভিড়।
এর আগে আজ সকালে লিমনের মরদেহ ঢাকায় আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। লিমনের বাবা জহুরুল হক বলছিলেন, ‘ছেলেকে অনেক যত্ন করে বড় করেছি। কখনোই কষ্ট দিইনি তাকে। কখনো কল্পনাও করিনি, এভাবে মারা যাবে আমার ছেলে। সে কী কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে, তা ওপরওয়ালাই জানেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি ছাত্র ছিলেন ২৭ বছরের তরুণ লিমন। গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন তিনি এবং বৃষ্টি নামের আরেক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার একটি ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় লিমনের মরদেহ। এর দুদিন পর ২৬ এপ্রিল জেলেরা পাশের একটি জঙ্গল (ম্যানগ্রোভ) থেকে খুঁজে পায় বৃষ্টির মরদেহের খণ্ডিত অংশ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে ছিল একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। এ ঘটনায় আবুঘরবেহের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।



