দাদার বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে দাদিকে হত্যা, নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরে দাদার বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে দাদিকে হত্যার ঘটনায় নাতি ফজলে রাব্বিসহ (২৯) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া বাকি দুজন হলেন- মসফিকুর রহমান রাজ (৩৪) ও নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)।
নিহত ওই বৃদ্ধার নাম অলেদা বেওয়া (৭০)। রাব্বি অলেদার মেঝো ছেলের সন্তান।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ জানায়, রাব্বি ও নাজমুল ঘোড়াঘাট উপজেলার এবং মসফিকুর দিনাজপুর সদরের বাহাদুর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার জানান, অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্ত হয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে যায় রাব্বি। আর্থিক অনটনে পড়ে ঘোড়াঘাট উপজেলার পূর্ব পালশা গ্রামে দাদার বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে সে। গত ২১ এপ্রিল চুরির পরিকল্পনা করার সময় রাব্বি বাকি দুইজনকে জানায়, তার ফুফু (নিহত বৃদ্ধার ছোট মেয়ে রহিমা) বিদেশে ছিল এবং বিদেশ থেকে এসে তার দাদির সঙ্গে থাকছেন। তার দাদির বাড়িতে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পয়সা আছে। দিনের বেলা তার ফুফু ডুগডুগি বাজারে দর্জির দোকানে কাজ করেন। বৃদ্ধা অলেদা তখন বাড়িতে একাই থাকেন। এ সময় রাব্বি মসফিকুর ও নাজমুলকে আশ্বস্ত করেন, যদি চুরি করতে গিয়ে তারা ধরাও পড়েন তাহলে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়া যাবে এবং মার খাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।
আনোয়ার জানান, ২১ এপ্রিল বিকেলে তিনজন মিলে দাদার ঘরে ঢুকে স্কচটেপ দিয়ে বৃদ্ধা অলেদার হাত, পা, মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
গত ২৭ এপ্রিল সাভারের আশুলিয়ার গকুর নগর এলাকা থেকে রাব্বি ও মসফিকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিনে ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রাম এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নাজমুলকে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার তিনজন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের একটি হার, এক জোড়া বালা, এক জোড়া চেইন, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া রুপার নুপুর উদ্ধার করা হয়েছে।



