জামালপুর
ডোবায় বিপুল সরকারি ওষুধ, তদন্ত কমিটি

ওষুধের গায়ে ‘সরকারি সরবরাহ’ লেখা রয়েছে।
ইসলামপুর উপজেলায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের ডোবায় বিপুল সরকারি ওষুধ ভাসতে দেখা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের অদূরে একটি ডোবায় এসব ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ওষুধের গায়ে ‘সরকারি সরবরাহ’ লেখা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্লিনিকটিতে ওষুধ সংকট থাকলেও এভাবে ওষুধ ফেলে দেওয়ার ঘটনা তাদের বিস্মিত করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুলকান্দী-বেলগাছা সড়কের পাশে অবস্থিত ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পশ্চিম পাশে একটি ডোবায় পানির ওপর ও কাদার মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে বিপুল ওষুধ।
ধনতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, প্রায় দুই বছর ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ওষুধ চাইলে না থাকার কথা বলা হতো। এখন ডোবায় ওষুধ পড়ে থাকতে দেখে তারা হতবাক।
একই গ্রামের মুঞ্জুরুল হক বলেছেন, সরকারি ওষুধ কারা এবং কেন এখানে ফেলেছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে বিষয়টি নিয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চরমুন্নিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. মিস্টার। তিনি জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ডোবায় ওষুধ ফেলার বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
পরিবারকল্যাণ সহকারী মোছা. রনি বেগম ও স্বাস্থ্য সহকারী শারমীন জান্নাত জানান, তারা নিয়ম অনুযায়ী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ডোবায় পাওয়া ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে এগুলো ওই ক্লিনিকের জন্য বরাদ্দ ছিল কি না, তা নিশ্চিত নন তারা।
‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে কমিটির সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না’, এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এ এম আবু তাহের।




