জাজিরায় ব্লক তৈরির সাইটে হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিলেন বিএনপি নেতা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নে নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্লক নির্মাণকাজ চলছিল। এই কন্সট্রাকশনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্লক নির্মান কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুমকি প্রদান এবং এক প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগও এসেছে ঐ নেতার নামে।
সংশ্লিষ্ট সাইটে কর্মরত কর্মীদের দাবি, গত ৬ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফরাজীর নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল হঠাৎ করে ব্লক তৈরির সাইটে প্রবেশ করে।
প্রথমে তারা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে এফআইডিএল-ভিনসেন জেবি’র অধীন বেঙ্গল কন্সট্রাকশনের সাইটের কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর পাশের আরেকটি সাইটে গিয়ে, যেখানে খুলনা শিপইয়ার্ডের অধীনে কাজ চলছিল, সেখানে যান।
সেখানে কোনো ত্রুটি না পেলেও তারা শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেন, কাজ পরিচালনা করতে হলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাধ্যমেই করতে হবে, অন্যথায় কাজ চালানো যাবে না।
স্থানীয় সূত্র থেকে ঘটনাটির একটি ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে, যেখানে এ ধরনের বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জানা গেছে,পদ্মা সেতু প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে ভাঙন রোধে প্রায় ৩৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ৩১টি প্যাকেজে মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। খুলনা শিপইয়ার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থ্রিপল এ এন্টারপ্রাইজের প্রধান প্রকৌশলী এসএম আখতারুজ্জামান জানান, ঘটনার পর তিনি সাইট পরিদর্শনে এসে সহকর্মীদের কাছ থেকে ধাক্কাধাক্কির একটি ঘটনার কথা শুনেতে পান। তার মতে ধাক্কাধাক্কির এই ঘটনা বিএনপির ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ঘটে।
স্থানীয় সাব-কন্ট্রাক্টর নিয়ামত মাদবরের দাবি, ওই সময় বিএনপি নেতারা এসে প্রথমে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। পরে কর্মীদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাইরের লোকজন দিয়ে কাজ করলে তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেন তারা।
এ সময় ভিডিও ধারণ করায় এক প্রকৌশলীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় এই সাব-কন্ট্রাক্টর।
মারধরের শিকার সিভিল প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রাতুল জানান, তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে এবং তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে।
পরে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে গিয়ে উল্টো অভিযোগ তোলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
বেঙ্গল কন্সট্রাকশনের প্রকৌশলী শাকিল হাসান সোহাগের ভাষ্য, তাদের সাইটে কাজ চলাকালে এসে জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে কাজ স্থবির হয়ে আছে।
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মাদবর জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ করা হয়েছে।
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফরাজী বলেন, নিম্নমানের বালু ও পাথর ব্যবহারের কারণে তারা কাজ বন্ধ করেছেন।
প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ঐ বিএনপি নেতা জানান, সেখানে কেবল কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি।
এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেছেন, মারধরের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কোথাও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



