হবিগঞ্জ
সুবিধাভোগী কৃষক নির্বাচনে স্বচ্ছতার নির্দেশ

ছবি: আগামীর সময়
প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে মানবিক সহায়তা দিতে হবিগঞ্জে ২৩ হাজার সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করছে উপজেলা ও জেলা স্টিয়ারিং কমিটি। এর মধ্যে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা পাবেন ৭ হাজার ৫০০ টাকা, মাঝারি ক্ষতিগ্রস্তরা ৫ হাজার এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তরা ২ হাজার ৫০০ টাকা করে। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হবে ২০ কেজি চালও।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনকে তিন দফা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। এ কাজে উপজেলা কমিটি ও জেলা স্টিয়ারিং কমিটির সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ‘মানবিক সহায়তা কার্ড’ দিতে হবে এবং কার্ড ছাড়া সহায়তা দেওয়া যাবে না কাউকে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি শাখা-১–এর সিনিয়র সহকারী সচিব আরিফ ফয়সাল খান গত বুধবার এক অফিস আদেশে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি জিএম সরফরাজকে দেন এ নির্দেশনা। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন।
এ বছর জেলার ৪৪টি বড় হাওরে ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। সেখান থেকে প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চাল পাওয়ার আশা ছিল। সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে টানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা লাগে। এপ্রিলের মাঝামাঝি ধান পাকতে শুরু করলে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয় প্রথম দফায়। পরে টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে একের পর এক হাওর প্লাবিত হয়। খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে এক রাতেই বানিয়াচং উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ছোট হাওর তলিয়ে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জেলার অন্তত ২৫টি হাওরের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন ধান নষ্ট হয়েছে। যে ধান থেকে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যেত। আর্থিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৭৬ কোটি টাকা।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) দ্বীপক কুমার পাল জানালেন, প্রথমে তালিকা করা হয়েছিল ২১ হাজার কৃষকের। পরে সেটি বাড়িয়ে ২৩ হাজার করা হচ্ছে।
উপজেলা কমিটি তালিকা তৈরি করে সরাসরি জেলা স্টিয়ারিং কমিটির কাছে জমা দেবে। যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাদ না পড়েন এবং ক্ষতিগ্রস্ত নন; এমন কেউ তালিকায় ঢুকে না পড়েন, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, উল্লেখ করেন তিনি।



