বিক্রির জন্য আনা ৪ পাতি সরালি হাঁস পাবিপ্রবিতে অবমুক্ত

ছবিঃ আগামীর সময়
পাবনা বড় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা চারটি বিপন্ন প্রজাতির পাতি সরালি হাঁস উদ্ধার করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অবমুক্ত করা হয়েছে। অসাধু শিকারিদের হাত থেকে পাখিগুলোকে বাঁচাতে এক প্রাণিপ্রেমী নাগরিকের নেওয়া এই উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পাবনা বড় বাজারে বিক্রির জন্য আনা পাতি সরালি হাঁসগুলো দেখতে পান প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদের বাবা কামরুজ্জামান।
বন্য পাখিগুলো অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে জবাই হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে কামরুজ্জামান নিজের পকেটের টাকা দিয়ে পাখি চারটি কিনে নেন। পরে পাখিগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁসগুলো অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাজমুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খালেদ ইকবাল চৌধুরী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক আবরার তাজোয়ার রিজন, প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ এবং প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদ।
পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের জলাশয়ে ডানা মেলতেই হাঁসগুলোকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে দেখা যায়।
‘আমরা যদি বন্য পাখি কেনা বন্ধ করি, তবে অবৈধ শিকার অনেকাংশে কমে আসবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব প্রাণীর গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের সবার উচিত বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা’, প্রফেসর নাজমুল বিপন্ন প্রাণী কেনা-বেচাকে সমাজের শিক্ষিত ও সচ্ছল শ্রেণির অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন।
প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সামান্য মাংসের লোভে অতিথি পাখি ও বন্যপ্রাণীদের ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। অবলা প্রাণীদের প্রতি আচরণ দেখেই একটি জাতির নৈতিক চরিত্র বোঝা যায়। নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিয়ে মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদ জানান, যদিও মানবিক কারণে অর্থ দিয়ে হাঁসগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, তবে বন্যপ্রাণী শিকার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি এই বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

